মদ ও জুয়ার আসরে নেতার ছবি ভাইরাল

বাগেরহাট জেলার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশের জুয়া খেলার ছবি ও মদের বোতল সামনে রেখে কথপোকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে “ডিজিটাল বাংলার রাজনৈতিক সাফল্য” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়। মূহুর্তের মধ্যে এ ছবি ও ভিডিও সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পরে। এর পর থেকেই মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, যুবলীগ নেতা তাজিনুর রহমান পলাশের ছত্রছায়ায় মোরেলগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মদ ও জুয়ার আসর বসলেও তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তার আসল চেহারা সবার সামনে চলে এসেছে।

জুয়া ও মদের আসর নিয়মিত চলতে থাকলেও এতদিন কেন কেউ কিছু বলেনি এমন প্রশ্নে জবাবে তারা আরও জানান, এ ধরনের লোক দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা অনেক সুবিধা নিয়েছে, তাই সবাই সবকিছু জানলেও কেউ কিছু বলেনি। এছাড়া সম্প্রতি তানজিনুর রহমান পলাশকে নিয়ে তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে “মেয়র পদে” তার সমর্থনে দোয়া ও আর্শিবাদ চেয়ে পোষ্টার ছাপালে, বিষয়টি অনেক নেতাকর্মী সহজ ভাবে নেয়নি। এ পোষ্টার ছাপানোটাই তার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে।

জানতে চাইলে মোরেলগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহবায়ক মোঃ আসাদুজ্জামান পলাশ বলেন, আগের থেকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ অনেক বেশি শুসংঘবদ্ধ। মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকাসহ খোদ যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে পলাশ ভাইয়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আসন্ন নির্বাচনে তিনি পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছে। তার এ জনপ্রিয়তায় হিংসায় তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ভূয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে এ্যাড. তাজিনুর রহমানের মুঠোফোনে বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার ছবি এডিট করে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ভিডিওটা এডিট করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার মাথা কেটে আর এক জনের ছবির উপর বসানো হয়েছে। ওই ভিডিওটিও রাজনৈতিক ভাবে আমার ক্ষতি করার জন্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে তৈরী করা।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মোরেলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে আমি দাড়ানোর ঘোষনা দিলে, আমার প্রতিপক্ষের লোকজন একাধিক ভূয়া ফেসবুক আইডি থেকে আমার ভূয়া ভিডিও ও ছবি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়টি ইতি মধ্যেই আমি মৌখিক ভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করেছি। আগামিকাল লিখিত ভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করবো।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনা সত্যি হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোরেলগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মনিরুল হক তালুকদার বলেন, পলাশ আমার ছোট ভাইয়ের মত। তাকে কখনই আমি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখিনা। তার কিছু ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, আমি নিজেও তা দেখেছি। এই ছবি ও ভিডিও এর কারনে দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। কেউ যদি তার ছবি এডিট করে এটা করে থাকে তাহলে আমি ঘটনার তদন্ত পূর্বক দোষী ব্যাক্তিদের শাস্তির দাবী জানাই। এছাড়া তদন্তে ঘটনা সত্যি প্রমানিত হলে আমি পলাশের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থারও দাবী জানাই।

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশের কিছু ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে জানতে পেরেছি। একাধিক ফেক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও গুলো ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া মৌখিক ভাবে তাজিনুর রহমান বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। এছাড়া আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি দিলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

Please follow and like us: