রাজবাড়ীর মাছপাড়া ইউনিয়ন যেন মাদকের অভয়ারণ্য

রাকিবুল ইসলাম রাফি, পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি।।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের প্রকাশ্য অবাধ বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। আর প্রশাসনও এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, পাংশা উপজেলার মাছপাড়ায় অবাধে মাদক ব্যবসা চলে আসছে। ইউনিয়নটি মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান হওয়ায় এখানে নির্বিঘ্নে তারা প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাফেনটা, গাঁজা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি ও সেবন করে চলেছে। তবে রাত বাড়তে থাকলে মাছপাড়া মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, মাছপাড়ার বারেক মোল্লা, মুকুল, রবি মন্ডল, আসলাম ওরফে ছোটন, মাছপাড়া ইউনিয়নের গাড়াল গ্রামের ওমর, মাছপাড়ার নওপাড়া গ্রামের হারুন মেম্বার, আরিফুল ও বাদশা দীর্ঘদিন ধরে মাছপাড়া স্কুলপাড়া, মাছপাড়া বাজার, রহিম মোড়, আলম মন্ডলের বাঁশবাগান ও বারেক মোল্লার মুরগি ফারাম এলাকায় প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করছে। যা এলাকায় মাদকের হাট নামে পরিচিতি রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে হারুন মেম্বার ও আরিফুলকে এর আগে খোকসা থানা পুলিশ মাদক সহ গ্রেফতার করলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় চালিয়ে যাচ্ছে এই মাদক ব্যবসা।

এছাড়াও ওই এলাকার খয়বরের দোকানসহ বেশ কিছু দোকানপাটেও চলছে মাদকের ব্যবসা। আর ওইসব দোকান থেকে মাদকসেবীরা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন ক্রয় ও সেবন করছে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে এই এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতেও ইয়াবা তুলে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। মাছপাড়া ইউনিয়নের সরকারি দলের প্রভাবশালী এক ইউপি মেম্বার ও ছাত্রলীগ সভাপতি মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী সচেতন ইউনিয়নবাসীরা বলেন, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গোপনে বিভিন্ন দপ্তরে বলা হলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না।

গত বুধবার (১১ই নভেম্বর) রাতে মাছপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী কাজি ফার্মেসীর তুষার কাজিকে ইয়াবা সহ আটক করে পাংশা থানা পুলিশ। কিন্তু তুষার কাজির কাছে প্রতিনিয়ত খয়বর নামের যে চা বিক্রেতা ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে সেই রাতে তুষার কাজির সাথে সেও তো ছিল তবে তাকে কেন গ্রেফতার করা হলোনা? এই বিষটি নিয়ে মাছপাড়া এলাকার জন সাধারণের মনে জেগেছে প্রশ্ন।

এ ব্যাপারে পাংশা মডেল থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, অনেকে বিষটি সম্পর্কে জানিয়েছে এর আগে। সে অনুযায়ী অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। আর আগামীতেও অভিযান চালানো হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর খয়বর নামের মাদক ব্যসায়ীর বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

Please follow and like us: