আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার পেলো নড়াইলের সাদাত

নড়াইলের কৃতি সন্তান “নড়াইল ভলেন্টিয়ার্স” এর প্রতিষ্ঠাতা কিশোর সাদাত রহমান সাকিব ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পিস অ্য্ওায়ার্ড বিজয়ী হয়েছেন। দুর্বার মেধা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিশ্ব অঙ্গণে নড়াইল তথা বাংলাদেশকে চিত্রশিল্পি এস এম সুলতান ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার পর আরো একবার সম্মানিত করেছে। জানা গেছে, ৪২টি দেশের ১৪২ জন শিশুর মনোনয়নের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল বিশ্বমঞ্চে উঠে আসার দৌড়। ‘শিশুদের নোবেল’খ্যাত আর্ন্তজাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের সেই দৌড়ে টিকে ছিল তিনজন। যাদের একজন নড়াইলের কিশোর সাদাত রহমান। সাইবার অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে সে উঠে এসেছিল বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ তিনে। তার এই সাফল্যে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ১৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগে শহরে সাদাতকে এই পুরষ্কার দেয়া হয়। নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিজয়ী সাদাত রহমানের নাম ঘোষণা করেন।
১৩ নভেম্বর শুক্রবার নেদারল্যান্ডসে সাদাত রহমানের হাতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই ভারচুয়ালি ভাবে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’ তুলে দিয়েছেন। এই কিশোর তার বন্ধুদের সহায়তায় ‘সাইবার টিনস’ মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে ‘সাইবার অপরাধ’ থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা জানতে পারে কীভাবে ইন্টারনেট দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকা যায়। এদিকে সাদাতের এই ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’ লাভ করায় আনন্দিত বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তার নিজের একটি সামাজিক সংগঠন ‘নড়াইল ভলেন্টিয়ারস’ এছাড়া নড়াইলের প্রশাসন।

নড়াইল জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রশংসায় ভাসছে সাদাত রহমান। নড়াইল-২ আসনের এমপি সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘তোমার (সাদাত) এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নড়াইলের প্রত্যেক মানুষের জন্য গর্বের এবং আনন্দের।’

সাদাতের গড়ে তোলা ‘নড়াইল ভলেন্টিয়ার্স’ এবং ‘সাইবার টিনস, নড়াইল’ এর দুই কর্মী অর্ণব ঘোষ ও শফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোর-কিশোরীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে তারা কাউকে বলতে পারে না। আবার তাদের সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসে না। ফলে অনেকেই আত্মহত্যার পথ নেয়। এ থেকে পরিত্রাণের কথা চিন্তা করেই আমাদের একটি ওয়েবসাইড এবং অ্যাপ তৈরি করা। তাদের এ সাফল্য গোটা দেশবাসীর। এ সাফল্য তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনেক অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাদাতের মা মলিনা খাতুন ছেলের এ সাফল্যের কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সে নড়াইল তথা দেশের সুনাম বয়ে এনেছে। এ জন্য আমরা খুবই আনন্দিত। সাদাতের সঙ্গে তার বাবাও নেদারল্যান্ডসে রয়েছেন। আগামী ১৬-১৭ নভেম্বর তারা দেশে আসবেন।

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, সাদাতের আইডিয়া আমাদের অ্যাকশন। এটা আমাদের একটি বড় সাফল্য। এ পর্যন্ত সাইবার টিনস-এর মাধ্যমে প্রায় ৫০টির মতো অভিযোগের মীমাংসা হয়েছে। ১২টির মতো সাইবার অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেককে বুঝিয়ে, তাদের সঙ্গে কাউন্সেলিং করে এবং অভিভাবককে জানিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোর-কিশোরীদের রক্ষায় সাদাত অ্যাপ তৈরি করেছে তা অভাবনীয়। আমরা এ আইডিয়ার সঙ্গে প্রথম থেকেই রয়েছি। তার টিমকে জেলা শিল্পকলা ভবনে একটি কক্ষ দেওয়া হয়েছে কাজ করার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে তাকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। সাদাত নড়াইলে এলে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
নড়াইলের রাজনৈতিক দলগুলো থেকেও সাদাতকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে ।

Please follow and like us: