বিলিচিং পাউডার আটকের ঘটনার সাথে বন্দর কর্মকর্তা সিএন্ড এফ এজেন্ট জড়িত

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ একটি অশুভ চক্রের শুল্ক চুরির অপতৎপরতা চলছেই। হঠাৎ কোন অবৈধ পণ্য কাস্টমস, বিজিবি ও অন্য কোন সংস্থার হাতে আটক হয়ে গেলে এবং এ নিয়ে মিডিয়াতে হৈ চৈ হলে অপতৎপরতা সাময়িক ভাবে বন্ধ হয় বটে। তবে কদিন বাদে আবার তথৈবচ। আর এসব অপকান্ডে কম বেশী কাস্টমস এর দুর্বৃত্ত তথা বন্দরের অসৎ কর্মকর্তারাও কম বেশী জড়িত। তবে মজার ব্যপার হলো একটি পণ্য আটক হওয়ার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দায়সারা গোছের উল্লেখিত আটক পণ্যর বিপরীতে দাখিলকৃত বিল অব এন্ট্রির সিএন্ড এফ এজেন্ড এর লাইসেন্স সাময়িক ভাবে স্থগিত করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটা কোন সমাধান নয়। প্রকৃত সমাধান হলো ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা মতে চোরাচালানি নিয়োজিত থাকার প্রমান কিংবা সংশ্লিষ্টতার নমুনা পাওয়া গেলে তাকে আটক করে জেল জরিমানা সহ শাস্তির আওয়াতায় আনতে হবে। কিন্তু এগুলো না মেনে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কাজই করে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বলা যায়,সুকৌশলে বেনাপোল স্থল বন্দরকে ধ্বংস করার জন্য একটি অসাধু চক্র আমদানিকৃত পণ্যর সাথে চোরাচালানি পণ্য পাচার করছে। আর এ সমস্থ চোরাচালানী পণ্য কখনো বিজিবির কাছে কখনো কাস্টমস এর কাছে আটক হয়ে লাইসেন্স খোয়াতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ডদের। আমদানিকৃত পণ্যর খালাসকৃত গাড়ির সাথে অবৈধ পণ্য পাচারকালে গত সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুটি সিএন্ডএফ এর লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেছে বেনাপোল কাস্টমস। সিএন্ডএফ দুটি হলো রিড এন্টারপ্রাইজ ও রিয়াংকা ইন্টারন্যাশনাল।

বেনাপোল কাস্টমস সুত্র জানায় ওই দুটি সিএন্ড এফ এজেন্ট এর রিয়াংকা ইন্টার ন্যাশনাল বিøচিং পাউডার   ঘোষণা দিয়ে ঘোষনা বহির্ভুত  অতিরিক্ত ৩৬০ কেজি কফি ও এক হাজার ৯২৭ কেজি রাসায়নিক পণ্য আনার অপরাধে  লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়। অপরদিকে রিড ট্রেড এন্টারপ্রাইজ এ্যালোমিনিয়াম ইনগড ঘোষনা দিয়ে অতিরিক্ত ঘোষনা বহির্ভুত ১৮৬ পিস থ্রিপিস, শাড়ি ২৫৪ পিস, লেহেঙ্গা ৩৭ পিস, পাঞ্জাবি ৩৭ পিস, থানকাপড় ২৩ দশমিক ৬ মিটার, ফলস কাপড় ৪ পিস, খালি বøাড ব্যাগ ৬০ পিস সহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে নিয়ে যাওযার সময় আটক হয় কাস্টমস এর হাতে। এই অপরাধ প্রমানিত হওয়ায় লাইসেন্সটি সাময়িক স্থগিত  করা হয়।

বেনাপোল বন্দরের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা  বলেন আমদানিকৃত পণ্যর গাড়িতে ভারত থেকে অতিরিক্ত পণ্য আসতে পারে। আর এসব পণ্য সুযোগ সন্ধানীরা নামিয়ে রাখে। এবং পণ্য খালাসকৃত গাড়ির চালকদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যেমে সুযোগ বুঝে  গাড়িতে ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গা পাঠিয়ে দেয়। তার কিছু অংশ কাস্টমস এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও বিজিবির কাছে মাঝে মধ্যে আটক হয়। আর এর দায় বহন করতে হয় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ড এর। আবার সুত্রটি দাবি করে বলে এর মধ্যে দু’একটি  চালান এর সাথে অসাধু কিছু সিএন্ড এফ এজেন্ড জড়িত থাকতে পারে।

বেনাপোল বন্দরের ৩৯ নং শেড থেকে যে  এ্যালোমিনিয়াম ইনগড বের হয়েছে সেই পণ্যর সাথে ওই গাড়িতে পাওয়া গেছে শাড়ি, থ্রিপিছ সহ নানা ধরনের পণ্য। এই পণ্য কিভাবে ওই গাড়িতে উঠল জানতে চাইলে শেড ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে আমদানিকৃত পণ্য বুঝে দিয়ে বাড়িতে চলে যাই। রাত সাড়ে ৮ টার সময় ফোন আসে ওই গাড়িতে অবৈধ পণ্য পাওয়া গেছে। এ পণ্য কি ভাবে পাওয়া গেছে জানতে চাইলে বলেন হয়ত কোন অসাধু লোকের সাথে যোগাযোগের মাধ্যেমে ভ্যানে করে বাইরে থেকে এনে ওই পণ্য খালাসকৃত গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় কাস্টমস এর কাছে আটক হতে পারে।

কিন্তু এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন ওঠে ওই পণ্যাগারের কোন ব্যক্তি জড়িত না থাকলে কি ভাবে সম্ভব বৈধ পন্যর সাথে অবৈধ পণ্য মিশানো। এ প্রসঙ্গে স্থল বন্দরে চাকুরির বিধি মালায় পরিস্কার উল্লেখ রয়েছে একটি পণ্যাগারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারিরাই ওই শেড বা পণ্যাগারের সংরক্ষিত মালামাল দায় ভার বহন করবেন।

এদিকে নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বিøচিং পাউডার বহনকারী দশটি ভারতীয় ট্রাক  বন্দরের ৮ নম্বর গেটের সামনে মহাসড়কের দু’পাশে অবস্থান নেয়। সেই থেকে এক মাস পড়ে থাকার পর খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে এই পণ্যর কাগজপত্রে ত্রæটি রয়েছে। এরপর আরো একমাস কেটে গেল । গাড়ি গুলো নড়ে না। কেন নড়ে না এর সদুত্তর কেউ দেয়নি। তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় আজ খোঁজ নিয়ে দেখা গেল ১০ টির মধ্যে তিনটি গাড়ি নেই। এখোন প্রশ্ন উঠতেই পারে আটক বিøচিং পাউডার এর গাড়ি কি এই ১০ টি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির একটি ? এটা নিয়ে আরো তদন্তর দাবি উঠেছে।

Please follow and like us: