৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম

বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাট জেলার, শরণখোলায় সুন্দরবন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সভাপতির বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সভাপতি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তার আপন শ্যালক ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সুপারের যোগসাজশে গত ২০নভেম্বর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে কমিটির অন্য সদস্য, আবেদনকারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া, সভাপতি রিয়াদুল পঞ্চায়েত ও মাদরাসার সুপার জামাল হোসেন নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্বিঘœ এবং সকল আবেদনকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে প্রত্যেক প্রার্থীর কারো কাছ থেকে এক লাখ আবার কারো কাছ থেকে দুই লাখ টাকা জামানত হিসেবে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন চাকরি বঞ্চিতরা।

লিখিত বক্তব্যে নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদনকারী সাইফুল ইসলাম বয়াতী জানান, মাদরাসার সুপার তাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা দাবি করলে তিনি দুই লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেন। চাকরি হলে বাকি এক লাখ দিতে হবে। এভাবে কৌশলে প্রত্যেক আবেদনকারীর কাছ থেকে এক লাখ-দুই লাখ টাকা করে অগ্রিম জমা নেন সুপার। পরবর্তীতে সভাপতি রিয়াদুল পঞ্চায়েতের ছক অনুযায়ী ২০ নভেম্বর বাগেরহাট আলিয়া মাদরাসায় সাজানো নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে লিখিত ও মৌখি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ড সভাপতির আপন শ্যালক আ. জলিল খলিফার ছেলে শিবির কর্মী সাইফুল ইসলাম খলিফাকে নিরাপত্তা কর্মী ও তার ছোট ভাই শহিদুল পঞ্চায়েতের স্ত্রী আসমা বেগমকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে নিয়োগ প্রদান করে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুজ্জামান খান ও মাদরাসা সুপার জামাল হোসেন এই অনৈতিক প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন।

এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ নিয়োগ এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাদরাসার দাতাসদস্য হাবিবুর রহমান, অভিভাবক সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন, আ. রাজ্জাক হাওলাদার এবং চারকি প্রত্যাশী রুবেল ফরাজী, মাসুম বিল্লাহ, জাহিদুল ইসলাম, শামিম খান ও রোজিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

মাদরাসার সুপার মাওলানা জামাল হোসেন প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।

মাদরাসার সভাপতি রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, বোর্ড যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়োগ দিয়েছে এখানে আমার কোনো হাত নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান খান  বলেন, সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় ডিজির প্রতিনিধির নির্দেশনা অনুযায়ী সভাপতিকে বাদ রেখে নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us: