লুটপাটের কেলেঙ্কারি ঢাকতে নতুন পন্থায় পাংশা সরকারি কলে

স্টাফ করেসপন্ডেন্টঃ 

পাংশা সরকারি কলেজ খাতা-কলমে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও এর আয়ের কোটি কোটি টাকা খেয়ে ফেলছেন কলেজে কর্মরত সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা। আর এই দুর্নীতি ঢাকতে কলেজের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন কলেজের মঞ্জুরি কমিশনে জমা দিচ্ছে না। যেগুলো দিচ্ছে তাও অনিয়মিত ও যথানিয়মে না।

পাংশা সরকারি কলেজের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। এর পর থেকে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শফিকুল মোর্শেদ আরুজ, কলেজের শিক্ষক শরিফুল মোর্শেদ রঞ্জু ও কলেজের বর্তমান দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক তাদের করে আসা দুর্নীতি ঢাকতে নানা অবৈধ কার্যকলাপ এবং পন্থা অবলম্বন করছে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শফিকুল মোর্শেদ আরুজ দায়িত্বে থাকা কালীন সময়ে ২০১৬ সালে কলেজের ফান্ড থেকে ব্যক্তিগত ভাবে ৫৯ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে। যার কোনো প্রকার হিসেব কিংবা হিসেবের বইতে লিপিবদ্ধ ছিল না। বর্তমান সময়ে এসে কলেজের দুর্নীতির দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের চোখ পড়ায় তারা এই বড় অঙ্কের অর্থের অনিয়ম ঢাকতে চলতি বছরের গত ৪ এপ্রিল নতুন ভাবে একটি হিসেবের খাতা তৈরি করে সেখানে ২০১৬ সালে শফিকুল মোর্শেদ আরুজ দায়িত্বে থাকা কালীন সময়ে তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে উত্তোলিত সেই ৫৯ লক্ষ টাকা সাধারণ শিক্ষিকদের দ্বারা বিভিন্ন ক্ষাতে হিসেব দেখিয়ে লিপিবদ্ধ করে। আর গত ৫ মার্চ সাধারণ শিক্ষকদের সেখানে স্বাক্ষর করতে বলে এই মর্মে যে তারা ২০১৬ সালে এই অর্থ কলেজ থেকে নিয়েছিল।

পাংশা সরকারি কলেজের কর্মকর্তারা তহবিলের টাকা নয়-ছয় করার তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে অডিট রিপোর্টেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সর্বশেষ ২০১৬-২০২১ অর্থবছরের তারা ব্যক্তিগত ভাবে অডিট করে রিপোর্টে উঠে আসা বিভিন্ন হিসেবের গড়মিল অর্থ ও অন্যান্য কেলেঙ্কারি ঢাকতে বেছে নিচ্ছেন নানান পন্থা।

আব্দুল খালেক গত ৮ মার্চ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। আর এর কয়েকদিন পর কলেজের শিক্ষক শিব শঙ্কর চক্রবর্তী কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামিমা আকতার মিনুর নামে কলেজের প্রধান শিক্ষকের রুমে যে নেমপ্লেট ছিল তা খুলে ফ্লোরে ফেলে পায়ের নিচে রাখে। রঞ্জুর নেতৃত্বে আব্দুল খালেক একটি বৈঠক অথবা মিটিং ডাকলে সেখানে উপস্থিত সবার জন্য বেশ বড় অঙ্কের টাকা করে সম্মানী রাখা হয়। এমনকি বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও উপস্থিত দেখিয়ে সেই টাকা তুলে নেয়। এই অর্থের জোগান দেয় কারা? শিক্ষার্থীরা। ফলে কোটি কোটি টাকা এভাবেই চলে যাচ্ছে। আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে পাংশা সরকারি কলেজে দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

পাংশা সরকারি কলেজে সাবেক ও বর্তমান সময়ে কর্মরত উক্ত শিক্ষিকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও এবং একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলেও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা দুদক কারোরই কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here