বাংলাদেশ হিন্দু প্রবাসী পরিষদের নির্বাহী সভাপতি নির্বাচিত হলেন সত্যব্রত কর

মিঠুন গোস্বামীঃ
“বাংলাদেশ হিন্দু প্রবাসী পরিষদ” এর নির্বাহী সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী “হিন্দু এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া” এর সভাপতি সত্যব্রত কর। তিনি একাধারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ক্রিড়াপ্রেমি তা ছাড়া এর আগে বাংলাদেশ হিন্দু প্রবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ছিলেন।
প্রবাসী জীবনে তিনি জর্জিয়ার আটলান্টা শহরে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যেবোধের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ ও জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করে চলেছেন।
সত্যব্রত কর ব্যক্তিজীবনে একজন সদা হাস্যজ্জ্বল, পরোপকারী, ধর্মানুরাগী সর্বোপরি সংগঠন প্রিয় একজন মানুষ, দেশে কিংবা প্রবাসে সর্বক্ষেত্রেই জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবসময় তিনি মানুষের বিপদে কাজ করে চলেছেন। অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া তাঁর অভ্যাস, নিজের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গণমানুষের পাশে দাড়াঁতে সর্বদা তিনি ব্যকুল।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী সত্যব্রত কর সুদীর্ঘ ২৪ বৎসরের অধিককাল আমেরিকার জর্জিয়ার আটলান্টায় শহের স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও মূলত তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন কালাপুর গ্রামের কৃতি সন্তান এবং সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এই গুণীমানুষটি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব প্রধান শিক্ষক সূর্য্য কুমার করের সন্তান, তাই পারিবারিক ভাবেই শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা-ঐতিহ্যেবহুল পরিবেশে বেড়ে সত্যব্রত কর ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকা, গান শিখা প্রভৃতি এবং কলেজ জীবনে তিনি তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে ছাত্র রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলা শহরের তৎকালীন উদীয়মান একজন কৃতি ফুটবলার হিসেবেও তিনি বেশ সুনাম কুঁড়িয়ে ছিলেন। অসংখ্য গুণের অধিকারী সত্যব্রত কর কর্ম জীবনের তাগিদে আমেরিকা প্রবাসী হন এবং সুদূর আমেরিকার জর্জিয়াতেও ব্যস্তময় কর্মজীবনের পাশাপাশি হৃদয়ের আত্মতৃপ্তির তাগিদে সনাতন ধর্মীয় আদর্শ, ঐতিহ্য, সভ্যতা-সংস্কৃতি রক্ষায় মনোনিবেশ ঘটান এবং ইতিমধ্যে সুপরিবেশ গড়ে তুলতেও সফল হয়েছেন, বর্তমানে আটলান্টা শহরে অনেকগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বেই বাঙ্গালী বর্ষপঞ্জিকার পূণ্যতিথি মেনে সনাতন ধর্মীয় সকল পূজার্চ্চনাাদি পালিত হয়ে থাকে।
বলা হয়ে থাকে যে, জর্জিয়ায় সনাতন ধর্মীয় যে কোন অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় এই মানুষটির উদ্যোগের মধ্য দিয়ে, তাই এই মানুষটি সর্বমহলে ‘করবাবু’ নামেই সুপরিচিত। তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকায় আমেরিকার জর্জিয়ার মতো স্থানে গড়ে উঠেছে জর্জিয়া প্রবাসী হিন্দুদের অধিকার আদায়ের সংগঠন “হিন্দু এসোসিয়েশন অব জর্জিয়া”। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ও পৃষ্ঠপোষকতায়  রয়েছেন।
প্রিয় জন্মস্থান বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা। তাই শতব্যস্ততার মাঝেও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি সাহায্যের হাত বাঁড়িয়ে দেন। এরি ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম হিন্দুদের অধিকার আদায়ের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সাথে সম্পৃক্ত হতে সদিচ্ছা প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক, উনার সহধর্মীনি মিসেস মিতালী দাসগুপ্তও সাবেক শিক্ষক ও বাংলাদেশ বেতারের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী।

Leave a Reply