নড়াইলের চিহ্নিত সুদখোর আল-মামুনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নড়াইলের চিহ্নিত সুদখোর আল-মামুনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

-নড়াইল প্রতিনিধি ঃ
নড়াইলের চিহিৃত সুদখোর আল মামুনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নড়াইল সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের আল মামুন বাগেরহাটে কাররক্ষী পদে চাকুরী করেন। সেই সাথে এলাকায় সুদে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন। তার সুদে ব্যবসার ফাঁদে পা দিয়ে অনেক পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। তার সুদে কারবার ও প্রতারণার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসি গত ১ আগষ্ট শোলপুর গ্রামে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সুদখোর আল আমিন ভালো মানুষ সাজতে গত ৮আগষ্ট একই স্থানে নিজেই কাউন্টার আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে নানামুখি সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এতে করে এলাকবাসির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তার সুদে ব্যবসা বন্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি জানান, গত ১ আগষ্ট বিকালে শোলপুর বিধানের মোড়ে কয়েক’শ মানুষ একত্রিত হয়ে তার বিরূদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন করে। ঘন্টা ব্যাপি এ মানববন্ধনে প্রতারক আল- মামুনের বিচার চেয়ে বক্তব্য দেন সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খয়েরুজ্জামান মোল্যা, চাচুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ( হিরক), আওয়ামী লীগ নেতা এসএম আলমগীর হোসেন, ক্ষতিগ্রস্থ ভিম বিশ্বাস সহ অনেকে। বক্তারা সুদে ব্যবসা বন্ধ ও তার প্রতারণার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন। জানা গেছে, কুখ্যাত সুদে ব্যবসায়ী আল মামুন বাগেরহাটে কারারক্ষী পদে কর্মরত আছেন। তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে সর্ব শান্ত হয়ে ভিটে মাটি ছাড়া হয়েছে এলাকার অনেক পরিবার। অনেকে সহায় সম্বল হারিয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট ভারতে পাড়ি দিয়েছেন। তার চক্রবৃদ্ধি সুদে কারবারে দিশেহারা হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন অনেকে। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী হাড়িয়ারগোপ গ্রামের ভিম বিশ্বাস তার নিকট হতে ৩ লাখ টাকা সুদে নিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি লিখে দিয়ে ও পার পাচ্ছেন না । সংবাদ সম্মেলনে ভিম বিশ্বাস জানান, তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। মাছ চাষ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অধিক লাভের আশায় আল- মামুন শেখের নিকট হতে ৩ লাখ টাকা ঋণ নেন প্রতি মাসে নির্ধারিত সুদ দেয়ার চুক্তিতে। টাকা নেয়ার সময় আল-মামুনকে ৩টি সাদা চেক দিতে হয়। ৩ লাখ টাকার বদলে ৭ লাখ টাকার জমি লিখে দিয়ে চেক ফেরত চাইলেও চেকফেরত দিচ্ছেন না। বরং নিজেকে প্রশাসনের বড় অফিসার দাবি করে ভয় ভীতি দিচ্ছেন। আল- মামুনের ভাই আনিচ জানান, তার ভাই বাগেরহাটে কারারক্ষী পদে কর্মরত আছেন। ভিম অনেকের উপস্থিতিতে তার পাওনা টাকা সুদ সহ পরিশোধ করেছে। কিন্তু আল-মামুন স্ত্রীর অসুস্থতার অজুহাতে তখন চেক ফেরত দেয় নি। এখন আল- মামুন নতুন করে টাকা দাবি করছে। এলাকাবাসি জানান,আল- মামুন একজন চিহ্নিত সুদে ব্যবসায়ী। তার সুদে ব্যবসার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে তার হাত থেকে ভিম সহ এলাকার সাধারন মানুষদের বাঁচানোর জোর দাবি জানিয়ে শোলপুর গ্রামের রাজু বলেন, আল- মামুনের সুদে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে ভারতে পালিয়ে চলে গেছে। তিনি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা সুদে দিয়ে সেই টাকা হতে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা সুদ নিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল-মামুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন,সরকারি চাকুরী করে সম্পদ অর্জন করেছেন। কোন সুদে ব্যবসা করেন না।

Leave a Reply