জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

-নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও নানা স্থাপনা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ইতিমধ্যে চলতি বন্যায় গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর বালুরচর, গাইবান্ধা ইউনিয়নের চন্দনপুর, নাপিতেরচর মরাবন, ডাকপাড়া, চরপুটিমারী ইউনিয়নের চার নম্বর চর, চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ল²ীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়ও ভাঙনের ফলে বসতভিটা, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ শত শত একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দার জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ সিরাজাবাদ নতুনপাড়াসহ গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে বাঁচতে অনেকেই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিদিনই কোনো না-কোনো অংশ ভেঙে পড়ছে নদের গর্ভে। ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, গত কয়েক দিনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি। প্রতিবছরই পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙন শুরু হয়। এ বছর যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে বিস্ত—ীর্ণ এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নদের পাড়ের বাসিন্দারা।

ভাঙনের শিকার দক্ষিণ সিরাজাবাদ নতুনপাড়া গ্রামের আব্দুস সালাম জানান, ‘ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি। এর আগে চারবার বসতবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়ছি।’ একই এলাকার নবুর উদ্দিন বলেন,আর কতবার ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র গিলে খাবে! এ নিয়ে সাতবার ব্রহ্মপুত্র গিলে খেয়েছে আমার বাড়িঘর। এবারও মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নদের জলে ভেসে গেছে। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব।

এ ব্যাপারে পলবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন ডিহিদার স্বাধীন বলেন, ‘নদের ভাঙন রোধে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছি কিন্তু এ জন্য প্রয়োজন মোটা অঙ্কের টাকা। সে সামর্থ্য ইউনিয়ন পরিষদের নেই।’ জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনরোধে বাঁশের আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন পানি বৃদ্ধি হওয়ায় আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম মোরশেদ বলেন, ত্রাণসহায়তা অব্যাহত রয়েছে। অবস্থা বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply