আজও ভোগান্তি চরমে ঢাকা ফেরা মানুষের 

আজও ভোগান্তি চরমে ঢাকা ফেরা মানুষের

-মিঠুন গোস্বামী রাজবাড়ীঃ

আজ থেকে চালু হলো শিল্প কলকারখানা, গত কাল থেকেই শ্রমিকেরা ঢাকায় যেতে শুরু করেছে। তবে গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সরকার গণপরিবহন চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও গণপরিবহনের দেখা মিলছে না ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে। গণপরিবহন না থাকায় আজও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকাগামী কর্মস্থলে ফেরা শতশত মানুষ।

করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে বন্ধ থাকা গণপরিবহন গার্মেন্টসহ কলকারখানা শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে রোববার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিলেও ভোর থেকেই ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কোন গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি।

এর আগে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলায় এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সীমিত আকারে লঞ্চ চলাচল করতে দেখা গেছে।

রোববার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮ টায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত ফেরিগুলো চলাচল করছে। তবে ফেরিগুলো কোন গণপরিবহন দেখা যায়নি। এমনকি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কেও গণপরিবহন চলতে দেখা যায়নি। এই মহাসড়কে ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি, থ্রি-হুইলার, পণ্যবাহী ট্রাক চলতে দেখা গিয়েছে। তবে আজ বেশির ভাগকেই মোটরসাইকেলে যেতে দেখা গেছে।

তবে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে কয়েক বাস দেখতে পাওয়া যায়। যেগুলো  স্থানীয় রুটে খুব সীমিত আকারে চলবে বলে বাস চালকরা জানান। গণপরিবহন না থাকায় আজও ভোগান্তিতে যাত্রীরা। অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে তাদের। এমনকি ঝুঁকি নিয়েই অবৈধ যানবাহনে চলতে হচ্ছে তাদের।

ঘাটে আসা যাত্রী রাসেল মোল্লা বলেন, সরকারের যারা নীতি-নির্ধারক রয়েছে তাদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। হুটহাট করে যে সিদ্ধান্ত নেন তাতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

যশোর থেকে আসা যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, সকালে গিয়ে অফিস করতে হবে। রাতে জানতে পারলাম গণপরিবহন চলবে। খবর পেয়ে কাউন্টারে গিয়ে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসে প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি।উল্লেখ্য, ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই তৈরি পোশাকসহ সব রফতানিমুখী শিল্পকারখানা রোববার (০১ আগস্ট) খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এতে রফতানিকারকেরা হাফ ছেড়ে বাঁচলেও বিপাকে পড়েন দূর দূরান্তে থাকা শ্রমিকেরা। কিভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন তার কোনো নির্দেশনা নেই। যার ফলে রোববার (০১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ ও গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার।

Leave a Reply