রাজবাড়ী জেলা আ’লীগের সম্মেলন ৩০ সেপ্টেম্বরঃতরুণদের প্রতি আস্থা তৃণমূলের

রাজবাড়ী জেলা আ’লীগের সম্মেলন ৩০ সেপ্টেম্বরঃতরুণদের প্রতি আস্থা তৃণমূলের

-মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ীঃ

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের দীনধার্য হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এমন সংবাদে জেলায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসব বিরাজ করছে। আগামী (৩০সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী শহীদ রেলওয়ে মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বরত সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম এ তথ্য নিশ্চত করেছেন।

এর আগে একাধিক বার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তা সম্ভব হয়নি। করোনা সংক্রমণের হার কমে আসায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি কে কেন্দ্র করে চলেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা। কে হবে আগামী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি /সাধারণ সম্পাদক। ভাইটাল দুই পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে হাফ ডজনের ও বেশি৷

কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বরত নেতার এমন বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যার যার পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছে।

এরই মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ১/১১ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দলোনে সামনে থেকে নেত্রীত্ব দেওয়া রাজবাড়ী কৃতি সন্তান শেখ সোহেল রানা টিপু রয়েছে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে।

জেলা আওয়ামীলীগের আগামীর কাউন্সিলে শেখ সোহেল রানা টিপু কে সাধারণ সম্পাদক করা হবে এমনটাই আশা করছে তৃণমূল আওয়ামীলীগের নবীন প্রবীণ নেতাকর্মীরা।

শেখ সোহেল রানা টিপুর প্রতি তৃণমূলের আস্থার অন্যতম কারণ হলো গত দুই বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ কে উপেক্ষা করে রাজবাড়ী বাসির পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। অন্য দিকে জেলার প্রভাবশালী নেতারা নিজ এলাকায় না আশা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে তুমুল আলোচনা কে হচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক। সেখানেও সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে শেখ সোহেল রানা টিপু।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন প্রবীণ তৃণমূল  আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, আগামী জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের উপর নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তবে তার মতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল কে সমাধান করতে হলে শেখ সোহেল রানা টিপু কে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে হবে।

শেখ সোহেল রানা টিপু কে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনলে কেনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকবে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিপু একমাত্র ব্যক্তি যে কি না কখনো নিজের লোক বলে কাউকে পরিচয় দেয় না। সে সব সময় বলে ব্যক্তি আমাকে পছন্দ হতে পারে আপনাদের তবে সাংগঠনিক দিক দিকে আমরা সবাই শেখ হাসিনার সৈনিক। আমরা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সবাই একটা পরিবারের মত। যার কারণে সবাই তাকে পছন্দ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমকে সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে বিভিন্ন নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কাজী কেরামত আলী নিজের পদ হতে অব্যাহতি নিলে তার আপন ভাই কাজী ইরাদত আলী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্বভার গ্রহণ করে।

গত ১২ ডিসেম্বর- ২০২০ তারিখে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ হতে অব্যাহতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত দেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী মর্জি।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর, ডেলিগেট তৈরি না করে একতরফা ভাবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড দের নিয়ে পকেট কমিটি করে দলের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, রাজবাড়ী তে প্রকৃত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই জেলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীক রাজনীতি চলে। তারা আরও বলেন, আগামী কাউন্সিলে যদি নতুন নেত্রীত্ব আসে তবে এই জেলার আওয়ামীলীগ বাঁচবে। আর যদি বর্তমান কমিটি থাকে তবে এখানে আর আওয়ামীলীগ  থাকবে না সেটা হবে ব্যক্তিগত লীগ।

Leave a Reply