পাংশায় ঘরের দরজার ভেঙে অন্যের বউকে অপহরণ 

পাংশায় ঘরের দরজার ভেঙে অন্যের বউকে অপহরণ
-মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ীঃ

রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভাধীন আজমল শেখ এর মেয়ে সীমা আক্তার (১৯) কে রাতের অন্ধকারে ঘরের দরজার ভেঙে তুলে নিয়ে গেলেন পাশের কুলটিয়া গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক এর ছেলে চেন্টু (২২)। মেয়ের পরিবার কে মামলা না করার হুমকি দিয়ে গেলেন চেন্টুর বড় ভাই টিটুল৷

গত বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ নাগাদ আজমল শেখের পৌরসভাধীন ৭নং মাগুড়াডাঙ্গী নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।
সীমা আক্তারের মা রাবেয়া খাতুন বলেন, গত কাল রাতে আমার বাড়িতে চেন্টু, টিটুল সহ আরও ৬/৭ জন মুখে কাপড় বেধে এসে আমাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ঘরের দরজার ভেঙে তুলে নিয়ে গেছে। এ সময় আমার স্বামী বাড়ি না থাকায় আমাকে মুখ চেপে ধরে রাখে পরে তারা ঘরে ডুকে আমার ২ জোড়া কানেত্তা, ১ জোড়া নাহেত্তা, একটা গলার চেন ও স্বামীর ব্যবসার নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে।
ঘটনা স্থলে গিয়ে জানাযায়, এই মেয়ের গত ৪ বছর আগে উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের সূজানগর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাক শেখ এর ছেলে শরিফুল ইসলাম (শহিদুল) এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর শরিফুল বিদেশ চলে যান। তবে বিদেশ যাওয়ার পর থেকে সে তার স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠাতে থাকে৷ গত ১৫ দিন আগে এই সীমা পরকীয়া প্রেমের জের ধরে চেন্টুর সাথে চলে যায়।
সীমার পরিবার থানা পুলিশের মাধ্যমে চলে যাওয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর ফিরে পায়৷ তবে সীমার কাছে স্বামীর পাঠানো প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ও পৌরসভা এলাকায় ৩ শতাংশ জমি থাকায় তার শশুর ও স্বামী টাকা ও জমি ফিরে পেতে পুলিশের দারস্থ হলে গত বুধবার সীমার নামে থাকা ৩ শতাংশ জমি স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়।
আরও জানাযায়, সীমার নামের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে প্রেমিক চেন্টু রেগে যায় এবং ব্যাংকে থাকা টাকা যাতে করে স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে না পারে এজন্যই গত বুধবার রাতেই তাকে তুলে নিয়ে গেছে। সেই সাথে তাদের ঘরে থাকা সোনার অলংকার ও বাবার ব্যবসার নগদ অর্থ ও নিয়ে যায়। 
 
সীমার শশুর আবুল রাজ্জাক শেখ বলেন, আমার ২ ছেলে বিদেশ থাকে তারা সব টাকা এই সীমার কাছে পাঠাতো। বিয়ের পর আমার ছেলে পৌরসভা এলাকায় ৬ শতাংশ জমি কেনে এর মধ্যে ৩ শতাংশ জমি সীমার নামে দেয়। এছাড়াও বাড়ি করার জন্য ৯ লক্ষ টাকা দিয়েছে যার মধ্যে খরচ করছে মাত্র ২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও মেয়ের কাছে এখনো প্রায় ১০ লক্ষ টাকা রয়েছে। তবে প্রথম বার সে অন্য ছেলে যাওয়ার পর পুলিশের মাধ্যমে জমি ফিরে পেলেও টাকা এখন ফিরে পাইনি। যদিও ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিলো। 
 
সীমার পিতা আজমল শেখ অভিযোগ করেছে আমার মেয়ে চলে গেলে আমার আপত্তি নাই তবে রাতে আমার বাড়িতে এসে আমার অবর্তমানে ঘরের দরজার ভেঙে মেয়েকে তুলে নিয়ে গেলো এমনকি সোনা ও নগদ টাকা আমার স্ত্রীকে আটকে রেখে বাক্সের তালা ভেঙে নিয়ে গেছে। আমি গত কাল রাতেই থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে অভিযোগ নেয়নি।

Leave a Reply