ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, কমছে ভোগান্তি 

ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি, কমছে ভোগান্তি

-মিঠুন গোস্বামী, রাজবাড়ীঃ

অনেক প্রতিক্ষার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বারখ্যাত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে সস্থি ফিরেছে চালক ও যাত্রীদের মাঝে। এর মূল কারণ ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি ও নদীতে স্রোতের তীব্রতা কম।

সরেজমিনে (১০ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। এগুলোর মধ্যে ১২টি রো-রো ফেরি রয়েছে। বাকি ৮টি ইউটিলিটি ফেরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, পদ্মার পানি কিছুদিন যাবত বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে। একই সাথে পদ্মা নদীর স্রোতের তীব্রতাও বেশ কমেছে।

পদ্মার পানি হ্রাস এবং স্রোতের গতিবেগ কমার কারণে ফেরি চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে বলে মনে করছে ঘাট কতৃপক্ষ এবং যাত্রী ও গাড়ি চালকরা। তবে ঘাট এলাকায় চোখে পড়ার মত তেমন কোন যানবাহন ঘাট পারাপারের অপেক্ষায় নেই।

ঘাট এলাকাতে দেখা যায়, নদী পারের জন্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য যানবাহন অপেক্ষায় নেই সড়কে। কয়েকদিন আগেও যেমন দুই থেকে তিনদিন ধরে নদী পারের জন্য অপেক্ষা থাকতে হয়েছে যানবাহনগুলোকে, এখন সেই চিত্র আর নেই। পর্যাপ্ত ফেরি থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দূরপাল্লার বাস যাত্রীদের নদী পার হতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারের কারণে ট্রাক চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে গত দেড় মাস ধরে পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও ফেরি সংকট থাকায় ভোগান্তি চরমে ছিলো বলে জানায় যাত্রী ও চালকেরা।

যশোর থেকে ছেড়ে আসা বাসচালক ইকবাল হোসেন জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে স্বস্তি ফিরেছে। এখন আর বাসগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরিপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। সিরিয়ালে গাড়ীগুলো ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ফেরির সংখ্যা যেনো এই নৌরুট থেকে হ্রাস করা না হয়।

ট্রাক চালক মজিদ মোল্লা বলেন, এই কয়েক দিন আগেও নদী পারের জন্য তিনদিন ঘাটে বসে ছিলাম। তীব্র স্রোত এবং ফেরির সংখ্যা কম থাকার কারণে প্রায় দুই মাস আমাদের চরম ভোগান্তি হয়েছে। কিন্তু আজ খুব অল্প সময়েই ফেরিতে উঠতে পেরেছি। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস পার করার কারণে আমাদের কিছু সময় ফেরিপারের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

এসময় তিনি আরও বলেন, ঘাট এলাকায় ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো ব্যাপার না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. জামাল হোসেন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। ফেরিগুলোর মধ্যে ১২টি রো-রো ফেরি রয়েছে। বাকি ৮টি ইউটিলিটি ফেরি। বড় ফেরির সংখ্যা বেশি থাকার কারণে এই রুটে ভোগান্তি কমেছে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, গত দেড় মাস ধরে জেলা পুলিশ সদস্যরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক এবং রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাজবাড়ী অংশ সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্য নৌরুটের যানবাহনের চাপ থাকায় যানবাহনের সংখ্যা ছিলো কয়েকগুণ বেশি। সেই তুলনায় ফেরি ছিলো অপ্রতুল। ২০টি ফেরি চলাচল করলে সব সময় স্বস্তির মধ্যেই যাত্রী ও চালকরা নৌরুট পার হতে পারবে।

Leave a Reply