তালায় সন্ত্রাসী আমলগীর বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মাদরা গ্রামের নিরীহ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়।

পাইকগাছা প্রতিনিধিঃ
তালা উপজেলার মাদরা গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ সন্ত্রাসী আলমগীর বাহিনীর অত্যাচারে জিম্মি দশায় দিনাতিপাত করছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমরীর হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে মাদরা গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, চাকুরিজীবী এবং শিক্ষার্থীরা এলাকার বাহিরে যেতে পারছেনা। সরেজমিনে জানা যায় বালিয়াদহের হোসেন আলী গাজী কলাগাছি গ্রামের একান্ত বাছাড়ের নিকট থেকে ১০কাটা জমি কিনে দুই ছেলে আলমগী ও জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ১৯৮০সাল থেকে বসবাস শুরু করেন। পাশ্ববর্তী এলাকা হিন্দু অধ্যুষিত হওয়ায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করতে পাশ্ববর্তী টিকেরামপুর সরদার বাড়ির লোকজনদের আশ্রয় দিতো আলমগীরের  বাড়িতে। ২০০৬ সালে দলুয়া বাজারে মাছ কাটায় বোমা মেরে নিহত রবীন ও জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় অন্যতম আসামী দোহার গ্রামের আসাদুল সকদার গ্রেফতার হয় এই সন্ত্রাসী আলমগীরের বাড়ি থেকে। এলাকার চরমপন্থীদের সংগেও সখ্যতা এই আলমগীরের। খোঁজ নিয়ে জানা যায় খোবরাখালী গ্রামের কল্যাণ মন্ডলের স্ত্রীকে নির্যাতন করে তার গর্ভস্থ সন্তানকে মেরে ফেলার অভিযোগ সন্ত্রাসী আলমগীরের বিরুদ্ধে। এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অজিত মন্ডলকে মারপিট করা, নিমাই মন্ডলের ছাগল মেরে ফেলাসহ একাধিক অত্যাচারের অভিযোগ আলমগীরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কোন শালিস মানেননা এই সন্ত্রাসী আলমগীর। গত ৬জুন আলমগীরসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী টিকেরামপুর সরদার বাড়ির রুবেল, তুহিন, শাহীনুর, সজীব, মীম, শান্ত ও বারা নগরেরে সবুজসহ কয়েকজন মিলে খোবরাখালী গ্রামের রবিন মন্ডলকে প্রাননাশের হুমকি দেয়। ইতিমধ্যে আলমগীরের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল দুবৃত্ত হাতে লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল, দা ও লাঠি নিয়ে ১৪টি মোটর সাইকেল যোগে মাদরা গ্রামে হামলার উদ্দেশ্য গেলে পথিমধ্যে মাদরা শ্মশানের পাশে বসে থাকা শান্ত, কুমারেশ ও সুমনকে পিটিয়ে জখম করে। আলমগীরের সন্তাসী বাহিনী মাদরা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে পাশ্ববর্তী এলাকার লোকজন এসে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা আলমগীর ও জাহাঙ্গীরের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। কিছু হামলাকারী শালিকা নদী পার হয়ে পালানোর সময় পাটকেলঘাটা থানার এসআই জাকিরের নেতৃত্বে পুলিশ এসে কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করে। পরে তালা ও পাটকেলঘাটা থানার অতিরিক্ত পুলিশ এসে হামলাকারীদের উদ্ধার করে অদৃশ্য কারণে  ছেড়ে দেয়।
পরে মুক্তি পাওয়া হামলাকারীরা দলুয়া বাজারেরে গৌরপদ মন্ডলের ওয়াটার প্লান্টের মধ্য থেকে রবিন মন্ডলকে ধরে নিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে থাকা  ষ্টোন চীপের উপর দিয়ে টানতে টানতে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা এবং পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর থেকে মাদরা গ্রামের নিরীহ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী এবং শিক্ষার্থীরা এলাকার বাইরে যেতে পারছে না। বর্তমানে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে প্রতিনিয়ত জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। গ্রামের চর্তুদিকে তারা টহল বসিয়ে পাহারা দিচ্ছে। বর্তমানে মাদরা গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত মানবেতর এবং শঙ্কিতভাবে দিনাতিপাত করছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা  এবং পুলিশ সুপার সাতক্ষীরা  মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছে মাদরা গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগী মানুষেরা।
Please follow and like us:

হালনাগাদঃ