“পরিদর্শন কালে (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন দক্ষিনাঞ্চল একটি ইকোনানোমিক জোন হিসাবে স্থান দখল করে আছে”

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পাবন চৌধুরী বলেন, সরকার দেশে ইকোনানোমিক জোন তৈরীর পরিকল্পনার ম্যাপের মধ্যে মোংলাসহ দক্ষিনাঞ্চল একটি গুরুত্ব পুর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। তাই “প্রশিক্ষিত জনবল এবং উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখেই সমুদ্র বন্দর মোংলায় ইকোনোমিক জোন তৈরীসহ এর পরিবেশ ও গুনগত মানের দিক লক্ষ করেই এর কর্মক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে মোংলার ইকোনোমিক জোনে পাওয়ারপ্যাক পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সেন্ট্রাল এফ্লুয়েট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও কার্গো জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিল্ডিং গেস্ট হাউজের উদ্বোধনী অনুষ্টানে তিনি একথা বলেন।

মোংলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরীর জন্য ২০৫ একর জমির উপর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ইকোনোমিক জোন স্থাপন করা হয়। এ জোনটিকে আধুনিকায়ন ও দ্রুত চালু করতে সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছে পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান রিক হক সিকদার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেজার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জোনের উন্নতির লক্ষে নিরলস প্রয়াসের জন্য পাওয়ারপ্যাকের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

প্রধান অতিথি বলেন, এই অঞ্চলটির মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চল (প্রাইভেট) লিমিটেড সিকদার গ্রুপের উদ্যোগ, এটি প্রথম সংস্থা যেটি ৫০ বছরের পরিকল্পনার জন্য ডিজাইন, বিল্ড, ফিনান্স, নিজস্ব ভাবে তৈরী করছে।

এটি মোংলার অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সহায়তায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের অধীনে অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (ডিবিএফআইওটি), বাগেরহাটের নির্বাহী সদস্য বেজা, মোঃ হারুনুর রশিদ, ডিরেক্টর মুহম্মদ সালাহউদ্দিন, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার, সহকারী কমিশনার ভুমি নয়ন কুমার রাজবংশী, পাওয়ারপ্যাক ইকোনমিক জোনসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা বলেন, পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চল, মোংলা কৌশলগত অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের একটি সবচেয়ে লাভজনক অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি মোংলা বন্দরের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত, যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। এছাড়াও প্রস্তাবিত খান জাহান আলী বিমানবন্দরটি জোন থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। বিমান বন্দরটি সম্পূর্ণ হলে এছাড়া পদ্মা সেতু বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংযোগকারী সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে সর্বাধিক সময়ের মধ্যে পরিবহন করা সম্ভব হবে। মোংলা বন্দরের পাশাপাশী পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চলের চাহিদা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মোংলা সাইট পাওয়ারপ্যাক ইকোনমিক জোন (পিইজেড) ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটি এখন সম্পূর্ণ কারখানা স্থাপনের জন্য বিকশিত হয়ে উঠছে। এ জোনে বসুন্ধরা শিল্প কমপ্লেক্স লিমিটেড তাদের বিদ্যমান প্রয়োজনীয়তা সমর্থন করতে ব্যাগ উৎúাদন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এক একর জমি নিয়েছে। অতিথি বৃন্দদের সাথে নিয়ে নির্বাহী চেয়ারম্যান, ইকোনোমিক জোন প্রকল্পের সাইটটি পরিদর্শন করেছেন এবং পাইলিংয়ের কাজগুলি ঘুরে দেখেন। জোনের এ অঞ্চলটি কাস্টম বন্ডেড অঞ্চল হিসাবে বিবেচিত হবে।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হবে আনসার বাহিনীও। জোনের আসন্ন অফ-সাইট অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত প্ল্যান্স, পুজার স্থান, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বীমা সংস্থা, প্রশাসন ভবন, ফায়ার স্টেশন অন্তর্ভুক্ত হবে। গেস্ট হাউস ইনভেস্টরস ক্লাব, সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট, ডরমিটরি, বিভিন্ন স্টোর, গুদাম, শুল্ক, সিইটিপি ইত্যাদির মোট জমির ৩০ শতাংশ হলো সবুজ এবং উন্মুক্ত স্থান হিসাবে এটি পরিবেশ-বান্ধব অঞ্চল হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বিনিয়োগকারী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরা পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন উৎúাদন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। মোংলার এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সকল দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীকে পাওয়ারপ্যাক অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য স্বাগত জানায় এর কৌশলগত অবস্থান এবং ভবিষ্যতের ব্যবসায়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করে অতিথিবৃন্দরা।

Please follow and like us: