ড্রাইভারকে মারধরের বিচার ও মাহেন্দ্র বন্ধের দাবিতে মোংলা বন্দর থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ”

বাগেরহাট জেলার, মোংলা-খুলনা মহাসড়কে বাস পরিবহন ড্রাইভার ও হেলপারকে মারধর করেছে মাহেন্দ্র ও নসিম-করিমন চালকরা। মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বাসষ্টান্ডে খুলনাগামী একটি বাস থেকে যাত্রী নামানোর সময় মাহেন্দ্র চালকদের সাথে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর পরই বাস ড্রাইভারকে মারধর ও মাহেন্দ্র বন্ধের দাবি তুলে মোংলা-খুলনা-বাগেরহাট রুটে সকল প্রকার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।

বাস পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধি ষ্টাটার মোঃ আব্দুল জলিল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরিশাল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেট্ট্র-ব-১৪-২২০১ নম্বারের একটি বাস মোংলা বাস ষ্টান্ডে মাহেন্দ্রের কাছে যাত্রী নামাচ্ছিল। এসময় মাহেন্দ্র, নসিমন-করিমনে থাকা চালকরা মিলে ড্রাইভার মনিরুজ্জামান ও হেলপার বুলবুল আকন্দকে বেধরক মারধর করে। এছাড়াও বাস ষ্টান্ডে ষ্টাটারের সামনে থাকা বাসের যাত্রীদের টেনে মাহেন্দ্রে উঠিয়ে নিয়ে যায় তারা। এ খবর সকল বাস ড্রাইবার ও মালিক পক্ষের কাছে পৌছে গেলে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ। আর দুপুর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারনে চরম ভোগান্তীতে পড়েছে বিভিন্ন জেলায় আসা-যাওয়া যাত্রীরা।

আন্তঃজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মালিক সমিতির প্রতিনিধি আল-আমিন আরো জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুরে বাক-বিতান্ডা হয় মাহেন্দ্র চালকদের সাথে। এক পর্যায় বাসের ড্রাইভার মনিরুজ্জামান ও হেলপার বুলবুল আকন্দকে মেরে আহত করে মোংলার মাহেন্দ্র চালকরা। এর আগেও বেশ কয়েকবার বাস ড্রাইভারদের মারধর করেছে, কিন্ত উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা পরিবহন চালু রেখেছি। সরকারের ৫ ধরনের লাইসেন্সের মাধ্যমে সড়কে বাস পরিবহন চলে কিন্ত সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধ নাসিমন-কমিন ও মাহেন্দ্র চলাচল করায় বাস মালিক সমিতি অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। বাস চালকদের মারধর করার কারনে মঙ্গলবার দুপুর থেকে অনিদিষ্ট কালের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়কে চলাচল করা অবৈধ ওই গাড়ী বন্ধের দাবিকে পরিবহন শ্রমিকরা বাসষ্টান্ডে বিক্ষোভ করেছে। বাস ড্রাইভারকে মারধর সুষ্ঠ বিচার ও মাহেন্দ্র, নসিমন-করিমন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতী চলবে বলেও জানায় পরিবহন শ্রমিকরা।

Please follow and like us: