“চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দু’টি পদে নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ”

বাগেরহাট জেলাধীন চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফকিরহাটের মূলঘর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্কুলের সভাপতি সরদার খালেদুর রহমান টিটো নির্ধারিত দুজনকে নিয়োগ দেবেন বলে চুড়ান্ত করে রেখেছেন। সভাপতির এ ধরণের কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছে অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার বিকেলে এমনটি জানিয়েছেন ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক শ্রেণীর সদস্য রিয়াজ হোসেন রিপন, সরদার মোজাফ্ফর হোসেন মিন্টু ও সাধন বৈরাগী।

তারা আরো বলেন, সরদার খালেদুর রহমান টিটো এলাকায় খুবই প্রভাবশালী। তার ভয়ে কেউ টু শব্দটি করে না। এই টিটো সরদার সব সময় প্রধান শিক্ষককে হুমকি-ধামকি প্রদান করে থাকেন।প্রধান শিক্ষকের আর অল্প দিন চাকুরী আছে। তাই তিনিও কোন প্রতিবাদ করেণ না। আমাদের ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফকিরহাটের মূলঘর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে লোক দেখানো নিয়োগ পরীক্ষা। সভাপতি আগে থেকেই উক্ত দু’টি পদে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দু’জনকে নির্ধারণ করে রেখেছেন। এদের মধ্যে কম্পিউটার ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে যাকে নির্ধারণ করা হয়েছে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রভাবশালী এক স্টাফের নিকটাত্মীয়। সভাপতির এ ধরণের কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছেন অত্র এলাকার অভিভাবক মহল ও সর্বস্তরের মানুষ। কোন অনিয়ম হলে স্কুল ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা তা মেনে নেব না।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সরদার খালেদুর রহমান টিটো মুঠোফোনে বলেন, কোন অর্থ বাণিজ্য করা হয়নি। ল্যাব এ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৮জন আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে বৈশাখী নামের মেয়েটি মেধাবী। তাকে নিয়োগ দেবার চিন্তা ভাবনা চলছে।

চিতলমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, ডিজির প্রতিনিধির ইচ্ছানুযায়ী ফকিরহাটের মূলঘর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, একজন অভিভাবক সদস্য, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। চারটি ক্যাটাগরী বিবেচনা করে পরীক্ষায় যারা প্রথম হবেন সেই দুইজনই নিয়োগ পাবেন। এখানে ঘুষ বাণিজ্য ও আত্মীয় করণের কোন সুযোগ নেই।

তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম বলেন, আমার কাছে এরুপ কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us: