বাগেরহাট জেলাধীন কচুয়ার আলোচিত দুর্নীতিবাজ সচিব দেবাশীষকে শোকজ”

বাগেরহাট জেলাধীন কচুয়ার সেই আলোচিত ইউপি সচিব দেবাশীষ মল্লিক এর অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য একে একে ফাঁস হওয়ার পর বদলি করলেও চার্জ বুঝিয়ে না দেয়ার কারনে স্থানীয় সরকার বাগেরহাট তাকে শোকজ করেছে।

জানাগেছে,সচিব দেবাশীষ মল্লিকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি,সাধারণ মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার সরকারী মালামাল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে গত ২৩ সেপ্টম্বর তাকে মোড়েলগঞ্জের নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে বদলি করেন জেলা প্রশাসক। মোড়েলগঞ্জ সদর ই্উপি সচিব শহীদুল ইসলাম মল্লিককে কচুয়া সদর ও গোপালপুর ইউপির সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর যোগদান করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বার বার ওয়াদা করে ব্যর্থ হয় দেবাশীষ মল্লিক। গত ২০ অক্টোবর সচিব শহীদুল ইসলাম মল্লিক জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করে।

কচুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদিজ বলেন, বদলিকৃত ইউপি সচিব দেবাশীষ মল্লিক অফিসিয়াল চার্জ, নিজস্ব আয়ের অর্থের হিসাব না দিয়ে বার বার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে ওয়াদা ভঙ্গ করে। তার কর্র্মকালীন ইউপির নিজস্ব তহবিলের আদায়কৃত অর্থ আংশিক ব্যাংকে জমা রেখে বাকি অর্থ নিজে হাতে রাখেন। তার কাছে হিসাব চাইলে হিসাব দিতে নানান কৌশল অবলম্বন করে। দাপ্তরিক নানা কাজে তার যথেষ্ঠ ত্রুটি রয়েছে। বদলির আদেশ পাওয়ার পর থেকে তার অনেক অসংগতীপূর্ণ আচরণ তার মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে যা একজন ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যথেষ্ঠ উদ্ধিগ্ন করে তুলছে। এব্যাপারে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।

অপর একটি সূত্র থেকে জানাগেছে, ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দেবাশীষ মল্লিক সদর ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলের কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ট্রেড লাইসেন্সের জমাকৃত টাকা মুড়িতে ২৩০ টাকা হলেও লাইসেন্সের কফিতে ২৫০ টাকা লিখেছে। এভাবে বহু টাকা আত্মসাতের প্রমান মিলছে। এছাড়া গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেখানেও তদন্ত করলে নানা তথ্য উঠে আসবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

এব্যাপারে স্থানীয় সরকার বাগেরহাটের উপ-পরিচালক দেব প্রসাদ পাল বলেন, চার্জ বুঝিয়ে না দেয়ার জন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের প্রমান পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us: