সুন্দরবনে আগুন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

খ.ম. নাজাকাত হোসেন সবুজ।
ব্যুরো প্রধান খুলনাঃ
সুন্দরবনে আবারো আগুন: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
আবার আগুন লেগেছে সুন্দরবনে। মাত্র তিন মাসের মাথায় সোমবার (৩ মে) সকালে পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নম্বর কম্পার্টমেন্টের দাসের ভারণী টহল ফাঁড়িসংলগ্ন বনে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। শুকনো পাতার মধ্যে থেকে মুহূর্তেই আগুন আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে বনে ব্যাপক এলাকা। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ২৭নম্বর কম্পার্টমেন্টের ধানসাগর স্টেশনের বনে আগু লেগে প্রায় ২০০বর্গ মিটার বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সুন্দরবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক মো. মইন উদ্দিন, পূর্ব সুন্দরবনের ডিএফও মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান অগ্নিকান্ড এলাকা পরিদর্শন করেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে বনের গাছপালা ঝুড়ে পাইপ লাইন তৈরীর চেষ্টা করছে। প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে মরা ভোলা নদীতে পাইপ বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) পাইপ বসানোর কাজ চলছে বলে শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আ. ছাত্তার জানিয়েছেন।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান জানান, সকাল ৯টার দিকে তারা আগুনের খবর জানতে পারেন। পরে দ্রুত শরণখোলা স্টেশন, দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ি, ভোলা টহল ফাঁড়ি, নাংলী টহল ফাঁড়ির ২৫-৩০ বনরক্ষী এবং সিপিজি সদস্যসহ স্থানীয় শতাধিক লোক নিয়ে সকাল ১১টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌছান। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে তারা ফায়ার লাইন কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ারোধে চেষ্টা করেন।
বনবিভাগের দাবি, বনের প্রায় দুই একর এলাকাজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে আগুন জ্বলছে। ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে। অগ্নিকান্ড এলাকায় বড় গাছের পাশাপাশি বলা গাছ ও লতাগুল্ম রয়েছে। তবে, বড় কোনো গাছ পোড়েনি। পাতার নিচ থেকে আগুন ছড়াচ্ছে। যার ফলে লতাগুল্ম পুড়ে গেছে। পাতা পঁচে মিথেন গ্যাস তৈরী হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে এই আগুন লেগেছে বলে বনবিভাগ ধারণা করছে।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইতিমধ্যে ব্যাপক বনভূমিতে আগুনের বিস্ত্রিতি ঘটেছে। বনের গাছপালার ওপর থেকে হু হু করে ধোয়ার কুন্ডুলি উঠছে। যা লোকালয় থেকেও দেখা যাচ্ছে। শুষ্ক বনে আগুনের ভয়াবহতা ক্রমশই বাড়ছে। কাছাকাছি পানি না থাকায় আগুন খুব সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু লোক প্রায়ই অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে মধু আহরণ করতে যায়। তারা মশাল জ্বালিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে। তাদের জ্বলন্ত মশালের আগুন থেকে এই আগুন লেগেছে।
বনবিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনে গত ১৫ বছরে ২৭ বার আগুন লেগে পুড়ে যায় প্রায় ৮০ একর বনভূমি। এরআগে সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৬ মে পূর্ব সুন্দরবনে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন আবদুল্লাহর ছিলায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনে প্রায় পাঁচ একর বনভূমির ছোট গাছপালা,লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পূর্ব বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বনের দুই একরের মতো এলাকার ছোট গাছপালা, লতাগুল্ম পুড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বনবিভাগ, এবং ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।
সুন্দরবন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক (সিএফ) মো. মইন উদ্দিন বলেন, অগ্নিকান্ড এলাকা খুবই দুর্গম। কাছাকাছি পানি নেই। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পাইপ বসানোর কাজ করছে। ঘটনা তদন্তে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. আব্দুল মান্নান ও ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. ফরিদুল ইসলাম।
Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here