“বসতবাড়ির দখল নিতে প্রভাবশালীরা বেপরোয়া”

খ.ম. নাজাকাত হোসেন সবুজ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের পিপড়াডাঙ্গা এলাকায় বিচারাধীন সম্পত্তি জোর করে দখল নিতে প্রভাবশালী একটি মহল বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আদালতে নিষেধাজ্ঞা ও ল্যান্ডসার্ভের মামলা থাকার পরও ওই জমির দখল নিতে মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের উপর প্রভাবশালীরা হামলা ও নানা প্রকার হয়রানি করছে। যে কোন সময় প্রতিপক্ষরা তাদের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখল করে নিতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবার। শুধু জাহিদুলের জমি নয় তার প্রতিবেশী আব্দুস সোহবান বাওয়ালীর জমিও দখলের চেষ্টা করছেন ওই প্রভাবশালীরা।

বুধবার দুপুরে প্রাইভেটকার চালক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা মৃত মোঃ জোহর আলী স্থানীয় হেমন্ত কুমার মন্ডল ও বসন্ত কুমার মন্ডলের কাছ থেকে ১৯৮৮ সালের ৯ এপ্রিল চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কিসমত পিপড়াডাঙ্গা মৌজায় সাড়ে ২৫ শতক জমি ক্রয় করেন। তারপর থেকে এই পর্যন্ত আমরা এই জমি ভোগ দখল করছি। উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারস্থ এই জমিতে আমাদের বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে স্থানীয় সাইফুল হাওলাদার, হেলাল সরদার ও রফিকুল ইসলাম আমাদের জমি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা এই জমির মধ্যে ৪ শতক জমি দাবি করেন। আমরা উপায়ন্তু না পেয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হই। দু’টি মামলা বিচারাধীন। তারপরও জমি দখল করতে একাধিকবার ওরা আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা আমাদের জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা চাই।

জাহিদুলের বিধবা মা আলেয়া বেগম বলেন, ৩২ বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছি। কিন্তু সাইফুল হাওলাদার ও হেলালরা আমাদের জমি দখলে নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। কয়েকদিন রাতেও আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করেছে। জমি বাঁচাতে আমরা রাতে ঘুমাতেও পারিনা। রাত জেগে পাহারা দেই। বৃদ্ধ বয়সে সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই বলে বুকফাটা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বিধবা এই নারী।

স্থানীয় তপন বিশ্বাস জানান, ছোট বেলা থেকেই দেখছি কালিগঞ্জ বাজারের পশ্চিমপাশের এই জায়গায় জাহিদুলরা বসবাস করেন। কয়েক বছর আগে জমিতে ভবন করে ভাড়াও দিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কেন যে সাইফুলরা জমি দাবি করছে আমরা জানিনা।

জাহিদুলের ভাড়াটিয়া মটরসাইকেল মেকানিক পরিতোষ বিশ্বাস জানান, কয়েক বছর আগে জাহিদুল ভাইয়ের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে এখানে মটর সাইকেলের গ্যারেজ করেছি। নিয়মিত জাহিদুল ভাইকে ভাড়াও পরিশোধ করি।

স্থানীয় আব্দুস সোহবান বাওয়ালী বলেন, জাহিদুলের বাবা জোহর আলী ও আমি দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি এই জমি ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে সাইফুল হাওলাদার, সোহাগ সরদার, হেলাল সরদার ও রফিকুল ইসলাম আমার জমির মধ্যে সাড়ে তিন শতক জমি দাবি করেন। আমাকে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। তারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলে না। বাধ্য হয়ে আমরা আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি। তারপরও সাইফুল ও তার লোকেরা আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। আমরা দুই পরিবারই একাধিকবার আইনজীবীদের মতামত নিয়েছি। আসলে তারা কোন জমি পাবে না। শুধু ক্ষমতার জোরে এই জমি দখল করতে চায়।

এ ব্যাপারে সাইফুল হাওলাদার বলেন, আমি এবং হেলাল সরদার হরেন্দ্রনাথ মন্ডল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০১৭ সালে ৪ শতক জমি ক্রয় করেছি। হরেন্দ্রনাথ মন্ডলের নামে এই জমির এসএ ও বিআরএস পর্চা রয়েছে। আমরা আমাদের দলিল করা জমি ভোগ দখলের চেষ্টা করলে জাহিদুল ইসলামরা আমাদের নামে উল্টো অভিযোগ করেছেন।

তবে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক জানান, ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যার পক্ষে রায় দিবে তিনি জমি ভোগ করবেন। কেউ যদি জোর পূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে আমাদের কাছে এমন অভিযোগ আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

Please follow and like us: