“করোনা প্রতিরোধে কাজ করছে একদল তরুন”

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তরুনরাই যুগে যুগে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের এ মহামারিতে এমনই একদল তরুন কাজ করছে বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলায়। করোনা প্রতিরোধে সময়ের সাথে সাথে জনসাধারনের মধ্য থেকে সচেতনতা কমে গেলেও এসব তরুন যুবরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনেকটা নীরবেই।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, খানপুর ইউনিয়ন ও বাগেরহাট পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড এবং ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ও নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ৩ শতাধিক তরুন যুব নারী-পুরুষ করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে পোষ্টার-লিফলেট বিতরন, নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানের সামনে সমাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করার জন্য গোলাকার চিহ্ন, নারীদের মাঝে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরন, হ্যান্ড ওয়াস পয়েন্ট স্থাপন ও জীবানুনাশক ঔষধ ছিটানোসহ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সহয়তার কাজ করছে।

এছাড়া করোনা কালীন সংকটের মুহুর্তে স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে অনলাইনে এ্যাডভোকেসির মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতা নিশ্চিত করনে কাজ করেছে এসব তরুন যুবরা। দাতা সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগীতায় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার বাস্তবায়নে এফোআই প্রকল্পের আওতায় তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

৩শতাধিক তরুন যুব সদস্য ১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে এসব তরুনরা বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪টি হ্যান্ড ওয়াশিং পয়েন্ট, ১২টি স্প্রে মেশিন এর সহায়তায় এ দুই উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় জীবানুনাশক স্প্রে করেছে। এ দুই উপজেলার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬ শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানাযায়।

বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সম্বনয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এর সংকটকালীন সময়ে সবচেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে করোনা প্রতিরোধে নিজেকে নিয়োজিত করা। আর তরুনরাই পারে করোনা মহামারির এই সংকটকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাড়াতে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের ১২টি যুব সংগঠনের সদস্যরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিটি গ্রুপের নারী-পুরুষের সমন্বয়ে ২৫ জন করে সদস্য আছে, যারা ইতি মধ্যেই খাদ্য বিতরন, হ্যান্ড ওয়াশিং পয়েন্ট স্থাপনসহ জীবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এছাড়াও আমাদের যুব সদস্যদের মাধ্যমে আমরা নতুন করে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছি।

বাঁধনের সংকল্প যুব গ্রুপের সদস্য আবু সাঈদ বলেন, করোনার ভয়াল আগ্রাসনে সমগ্র বিশ্ব আজ থমকে গেছে। থমকে গেছে বিশে^র অর্থনীতির চাকা, থমকে গেছে মানুষের সাথে মানুষের সরাসরি যোগাযোগ। নিয়ম মেনে মানা হচ্ছে সামাজিক র্দূরত্ব। এ অবস্থায় আমরা অনলাইন প্লাটফর্মটাকে কাজে লাগিয়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

বাঁধনের ফকিরহাট উপজেলা চন্দ্রবিন্দু যুব গ্রুপের সদস্য সাবিরা সুলতানা বলেন, আমরা প্রত্যেকটি কমিউনিটিতে এলাকার যুব সমাজ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ গুলো করছি। পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে করনীয় বিষয়গুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরীতে কাজ করছি আমরা।

বাগেরহাট ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের এ সংকটকালীন মুহুর্তে আমরা ইউনিয়নের তরুন এগিয়ে এসেছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে। যেটি আবশ্যই প্রসংশনীয় কাজ। ইতি মধ্যেই এসব তরুনা ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য সহয়তা প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করেছে। আমি আশা করি এ ধরনের সমাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের তরুন যুবদের মাঝে নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। যার ফলে আগামীকে তরুন যুব নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

Please follow and like us: