“শেখ হাসিনার আস্থার মর্যাদা রাখবেন নৌকার প্রার্থী শান্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে”

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা এবং বিশ্বাস নিয়ে আমাকে নৌকার প্রার্থী মনোনিত করেছেন, আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তার সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করবো। আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রয়াত বাবার স্থলাভিশিক্ত হয়ে সবার সহযোগীতায় তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন এবং দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করবো।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকনের ছেলে রায়হান উদ্দিন শান্ত উপ-নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২০১৯ সালের ২৪মার্চ তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তৃতীয়বার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আকন মাত্র আট মাসের মাথায় একই বছরের পাঁচ ডিসেম্বর মারা যান। এর পর থেকে শূণ্য পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং শুরু করেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নির্বাচন কমিশন গত ১৫সেপ্টম্বর তফসিল ঘোষনার পর নির্বাচনী তৎপরতায় অংশ নিতে আওয়ামীলীগ থেকে মোট আট জন মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড রায়হান উদ্দিন শান্তকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দেয়।

অপরদিকে, উপ-নির্বাচনে বিএনপি থেকে তিন জন এবং জাতীয় পার্টি (এ.) থেকে একজন স্ব স্ব দল থেকে মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন। এদের মধ্যে বিএনপি থেকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দুইবারের প্রতিদ্বন্দ্বি মতিয়ার রহমান খানকে প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত করেছে দল। এছাড়া জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্টির জেলা সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মনোনয়ন পত্র কিনলেও প্রার্থীতায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে দলের উপজেলা সহ-সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন জানান, সব সময় দলের শৃঙ্খলা মেনে ত্যাগ স্বীকার করেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাজ করে যাবো।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, কাজের মূল্যায়ন না করে দল পারিবারিক সহানুভূতি দেখিয়েছে। তারপরও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছি।

আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হক হায়দার বলেন, দলের মনোনয়ন বোর্ড যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করবো।

বিএনপি’র মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ইসাহাক আলী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, দলের সিদ্ধান্তের সাথে একমত। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে এর বাইরে অবস্থান নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান খান বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।

জাপা প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বার্ধক্যজনিক কারণে আমি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে আমার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামকে প্রার্থী করার জন্য সুপারিশ করবো মনোনয়ন বোর্ডের কাছে।

জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, প্রার্থী নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এখন আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

Please follow and like us: