“নারী-শিশু অবরুদ্ধ, লুটপাটের অভিযোগ শরোণখোলায়”

বাগেরহাট জেলার, শরণখোলায় একটি হত্যা মামলাকে পুঁজি করে ফায়দা হাসিল ও লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে বাদীপক্ষ। আসামীদের নিরিহ স্বজনদের অবরুদ্ধ করে রাখাসহ তাদের ঘেরের মাছ, বাড়ির মালামাল, খড়ের গাদা লুট ও দোকান ঘর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চরম ভীতির মধ্যে দিন কাটছে পুরুষশূণ্য ওই অসহায় পরিবারের নারী ও শিশুদের। কেউ তাদের পক্ষে কথা বললে হুমকি ও মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আসামীদের স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের পূর্ব ধানসাগর গ্রামে গেলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে, পুলিশ বলছে অবরুদ্ধ বা লুটপাটের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলা পূর্ব ধানসাগর গ্রামে একটি ছাগলের গায়ে কাদা মাখানোর জেরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে জাকির জমাদ্দার (৫৩) মারা যান। এঘটনায় স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে নিহতের তিন চাচাতো ভাই মন্টু জমাদ্দার, সেন্টু জমাদ্দার, সেলিম জমাদ্দার, মন্টুর স্ত্রী শিল্পী বেগম, সেন্টুর স্ত্রী মাসুমা বেগম, মন্টুর শ্যালক সোহেল হাওলাদার, মিলন হাওলাদারসহ সাত জনকে আসামী করে ২৬ আগস্ট শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শিল্পী বেগম ও মাসুমা বেগম জেলহাজতে রয়েছে। অন্য আসামীরা পলাতক।

সরেজমিনে দেখা যায়, আসামী সেলিম জমাদ্দারের বাড়িতে তার স্ত্রী নাছিমা বেগম কুয়েত প্রবাসী ছেলের বউ জান্নাতী বেগম ও দুই বছরের নাতী আরাফাতকে নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া অন্য আসামীদের বাড়িতে কোনো লোকজন নেই। তাদের সবার ঘরে তালা ঝুলছে। একজন পুরুষও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেলিম জমাদ্দারের বাড়ির সামনে তার দোকানও তালাবদ্ধ। গরুর খাবার সংগ্রহেও বের হতে পারছেনা তারা।

ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সেলিমের স্ত্রী নাছিমা বেগম বাগেরহাট টুয়েন্টি ফোরকে জানান, রাত হলে ঘরের আশপাশে লোকজনের আনাগোনা টের পাওয়া যায়। বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই। ছেলের বউ আর নাতী নিয়ে থাকেন। ভয়ে তারা রাতে ঘুমোতে পারেন না। নিহত জাকিরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির তাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। দুটি গরু গোয়ালেই না খেয়ে পড়ে আছে। মামলার বাদী শিউলী বেগম তাদের দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এতে প্রায় লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল পঁচে নষ্ট হচ্ছে। হুমায়ুন ও তার ছেলে-ভাইয়ের ছেলেদের ভয়ে কেউ তাদের সহযোগিতায় এগিয়েও আসে না। এব্যাপারে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের ভাই হুমায়ুন কবির জানান, আমরা কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখি নাই। অন্য কোনো মানুষ হলে এতোদিন আসামীদের বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হইয়া যাইতো। আমরাতো তার কিছুই করি নাই। কেডা কার ঘেরের মাছ, বাড়ির মালামাল নিছে আমরা জানিনা।

মামলার বাদী শিউলী বেগমের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্বামী কবরে বইয়া পঁচতে আছে। সেই জন্যে সেলিমের দোকানে আমি নিজে তালা লাগাইয়া দিছি। যাতে আমার স্বামীর মতো দোকানের মালও পঁচে। আমার গরুরে খাওয়াইতে আসামী মন্টুর গাদির কুডা (খড়ের গাদা) নিছি। আর কিছ্ ুনিইনাই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলতাফ হোসেন বলেন, আমি চাই হত্যার বিচার হোক। কিন্তু এখানে আসামীদের নিরিহ লোকজনকে হয়রানী করা হচ্ছে। নিহতের ভাই হুমায়ুন ও তার ছেলে-ভাইপোরা আসামীদের ঘেরের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গাছের নারকেল পেড়ে নিয়ে গেছে। একটি খড়ের গাদা বিক্রি করে দিয়েছে। সেলিমের স্ত্রী-পুত্রবধুকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছেনা। এসব বিষয়ে নিষেধ করায় তারা আমাকেও হুমকি দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শরণখোলার থানার ওসি (তদন্ত) মফিজুর রহমান শেখ লুটপাটের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, এব্যাপারে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us: