বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ এর নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) এর যাত্রাকাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি নিতীমালাগত যে ত্রæটি বিচ্যুতি রয়েছে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার বেলায় যে নীতি মালা তৈরী করা হয়েছিল তা এক কেন্দ্রিক। এবং একটি গনতান্ত্রিক দেশের জন্য যৌক্তিক নয়। বিষয়টি বহুবার সংবাদ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট একাধিক মহল থেকে উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আজর্ষন করলেও বিগত এক দশকে এই বিষয়টি সম্পূর্ন উপেক্ষিত হয়েছে। সাবেক বাস্থবক চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন আহম্দে ও তপন চক্রবর্তী নীতি মালার বিকেন্দ্রীকরনের কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এমনকি নৌ-পরিবহন মন্ত্রানালয়ের সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খানও এই গুরুত্বপুর্ন বিষয়টি আমলে নেননি।

নির্ভরযোগ্য অসমর্থিত সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে বাস্থবকের নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে এম তারিকুল ইসলাম গনতান্ত্রিক দেশের উপযোগি একটি গনতান্ত্রিক নীতিমালা এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুত এর উদ্যেগ গ্রহন করেছেন। প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) এর কাঠামোগত বিকেন্দ্রীকরনের তথা গনতান্ত্রায়নের দাবি এখন যৌক্তিক হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে যখন এই প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয় তখন দেশের একমাত্র স্থল বন্দর বেনাপোলকে টার্গেট করেই এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছিল। তখন প্রতিষ্ঠানটি চাকুরী বিধি নিয়োগ বদলী নির্মান ইত্যাদি সহ নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য যে নিতিমালা প্রনয়ন হয় সেটি ছিল এককেন্দ্রিক। কিন্তু আজ এই প্রতিষ্ঠানটির অধিনে সমগ্র দেশে স্থল বন্দর এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ টি । স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে নিতিমালার বিকেন্দ্রিকরন না করলে পুরোনো নিতি মালা দিয়ে কি সুষ্ঠু ভাবে প্রতিষ্ঠানটি গতিশিল ভাবে চালানো সম্ভব ?

সুত্রমতে বাস্থবক এর নীতিমালা পরিবর্তন তথা সংযোজন বর্জন সংক্রান্ত একটি প্রস্তবনা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ে পেশ করা হচ্ছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে প্রস্তবনা সমুহ পেশ করা হচ্ছে তা অনুমোদিত হলে এই সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আরো গতিশীল হয়ে উঠবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে বাস্থবক এর অধিন যেকোন বন্দরে কর্মরত কর্মচারী বদলী ,শাস্তি, কিংবা যে কোন বিষয়ে কোন কিছু করার ক্ষমতা ওই বন্দর পরিচালক সংরক্ষন করেন না। একজন সাধারন এমএল এস যদি কোন অপরাধও করে তাহলে ওই পরিচালকের কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। এ ব্যাপারে তাকে সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এর মুখাপেক্ষি থাকতে হয়। এটা একটি গনতান্ত্রিক উন্নয়নশীল দেশে আদৈও কি প্রযোয্য হয়ে থাকতে পারে। এ্ই নীতিতমালার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন আহমেদ কিংবা তপন চক্রবর্তীর সময়ে একাধিকবার উঠানো হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শাহজাহান খান সহ মন্ত্রনালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউই গুরত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করেননি। যারই ফলশ্রতিতেতে আজ এই প্রতিষ্ঠানটি একটি স্থবির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে।

Please follow and like us: