বেনাপোল বন্দর এর ৮৯১ শ্রমিকদের বিশ্রামাগার থেকে ২০ টি হাত বোমা উদ্ধার

শান্ত বেনাপোলকে অশান্ত করে তোলার জন্য আবারও বেনাপোল বন্দর এলাকায় বোমা মজুদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১ .৩০ টার সময় বন্দরের ৪ নং গেটের বিপরীতে আব্দুর রশীদের বাড়ি থেকে ২০ টি হাত বোমা উদ্ধার হয়। ওই বাড়িটিতে বেনাপোল স্থল বন্দরের ৮৯১ শ্রমিক ইউনিয়ন এর শ্রমিকরা রেষ্ট হাউজ হিসাবে ভাড়া নিয়েছে। তারা বন্দরে পণ্য উঠানামার কাজ করে এবং অবসর সময় বিশ্রাম নেয়।

বেনাপোল বন্দর এলাকার একাধিক জনগন দাবি তুলেছে কি কারনে বোমা রাখা হয়েছে? কাদের উপর এই বোমা নিক্ষেপ করা হবে? একটি শান্ত নগরীকে অশান্ত করার উদ্দেশ্য এই বোমা রাখা হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জনগন প্রশ্ন তুলে বলেন, বেনাপোল বন্দরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গ্রæপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে এলাকায় হয়ত ত্রাস সৃষ্টির জন্য বোমা মজুদ রেখেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও বেনাপোল বন্দর এর ২৩ নং শেড এর পাশে বোমা বিস্ফোরিত হয়। এর কয়েকদিন আগে বন্দর এলাকায় শ্রমিকরা পণ্য লোড আনলোড বাদ দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে যার ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়েও সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে অসমর্থিত একটি সুত্র দাবি করে।

বোমা উদ্ধার হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদ বলেন, আমি প্রয় ২৫ বছর আগে ওই বাড়িটি ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু একদিনও বাড়িতে বসবাস করি নাই। আমি আমার গ্রামের বাড়ি পুটখালিতে বসবাস করি। বাড়িটি শ্রমিকরা তাদের বিশ্রামাগার হিসাবে আমার নিকট থেকে ভাড়া নিয়েছে। বোমা উদ্ধারের বিষয় আমি কিছু জানি না।
৪৯ বিজিবি বেনাপোল ক্যাম্পের সুবেদার শহিদ হোসেন বলেন রাত প্রায় আনুমানিক দেড় ঘটিকার সময় গোপন সংবাদ এর ভিত্তিতে বেনাপোল বন্দরের ৫ নং গেটের সামনের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে একটি বাথরুম থেকে ২০ টি বোমা উদ্ধার হয়। তবে বোমা উদ্ধারের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বেনাপোল সদর ক্যাম্পের সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, বোমা উদ্ধার হয়েছে। তবে আমরা সিও ও টুআইসি স্যার ব্যতিত কোন তথ্য দিতে পারব না।

বেনাপোল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামী নেতা অহিদুজ্জামান বলেন, আমরা সুনামের সাথে প্রায় ৩ টি বছর বেনাপোল বন্দরের পণ্য উঠানামার কর্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের সুনাম নষ্ট করার জন্য কেউ চক্রান্ত করে এখানে বোমা রাখতে পারে।

Please follow and like us: