রশিদ চেয়ারম্যান এর অপকর্মে শার্শার গোগা ইউনিয়ন বাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে

চাঁদাবাজি, দস্যুতা, লুটপাট, মাদক ব্যবসা তথা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জন প্রতিনিধিদের কেউ কেউ যে কুৎসিত ভাবে জড়িয়ে পড়েছে তার একটি ভয়ংকর চিত্র পাওয়া গেল আজ যশোর জেলার শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ এর মধ্যে। এই সব ঘৃনিত লোক গুলো আজ সমাজকে কলুষিত করে মুক্তিযদ্ধের চেতনাকে সম্পুর্ন ভুলুন্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এদের কর্মকান্ডে সাধারন শান্তি প্রিয় মানুষ দিন দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তারা এই সকল অমানুষদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি করছে।

জানা গেছে গোগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ নিজেই শুধু চাঁদাবাজি লুটপাট,দস্যুতা মাদক ব্যবসা ইত্যকার অকর্মের নেপথ্য হোতা-ই নন, তার গুনধর পুত্র স¤্রাট হোসেন আরও ভয়ংকর ভাবে মাদক ব্যবসা সহ নানাবিধ অপকর্মে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। আর এ হেন ঘৃন্য কর্মকান্ডের জের ধরে আজ মঙ্গলবার গোগা বাজারে ভয়ংকর মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সরেজমিন ওই এলাকায় যেয়ে তথ্য পাওয়া গেল তা হচ্ছে রশিদ চেয়ারম্যান এর পুত্র সম্্রাট হোসেনের সাথে একই ইউনিয়ন এর মেম্বার বাবুল মিয়ার মধ্যে বিভিন্ন অপকর্মের ভাগ বাটোয়ারার সম্পর্ক থাকলেও স¤্রাট হোসেনের একটি ফেনসিডিল এর চালান আটকের জের ধরে দুজনের মধ্যে ভেতরে ভেতরে ঠান্ডা লড়াই ও শত্রæতা চলছিল। ইউনিয়ন এর ৩ নং ওয়ার্ড ভুক্ত হরিষ চন্দ্রপুর গ্রামের বিভিন্ন শালিশ, চাঁদাবাজি কিংবা অন্য কোন উৎস থেকে হাতিয়ে নেওয়া মোটা টাকা বাবুল মেম্বার ও স¤্রাট এর মধ্যে বাটোয়ারা হতো। এসকল অপকর্মে গ্রাম বাসিদের কেউ কেউ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত রশিদ চেয়ারম্যান এর কাছে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তবে তারা ভয়ে স¤্রাট হোসেনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠাননি। অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে রশিদ চেয়ারম্যান বাবুল মেম্বারকে বিভিন্ন ভাবে নেয়া ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলে। তখন বাবুল মেম্বার বলে টাকা পয়সা আমি একা নেয়নি। আপানার পুত্র স¤্রাটও আমার সাথে নিয়মিত সমান ভাগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান নির্বিকার থেকেই বাবুল মেম্বারকে টাকা পরিশোধ এর চাপ দেয়। এর প্রেক্ষিতে বাবুল মিয়া রশিদ চেয়ারম্যানকে এক লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং বাকি টাকা পরে দিবে বলে জানায়।

এদিকে প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এর সময় আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান বাবুল মেম্বার এর কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করেছিল। এই টাকা বাবুল মেম্বার ফেরত চান। এমনকি এই ঋনের টাকার বিষয়টি তিনি সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিকে অবহিত করে। তিনি রশিদ চেযারম্যানকে এ্ই ঋনের টাকা ফেরত দিতে বলেন। এরপরই রশিদ চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এবং বাবুল মেম্বারকে বলে এই টাকা তো তোর নমিনেশন বাবদ নেওয়া হয়েছে; তুই আবার ঋন হিসাবে এটা দাবি করছিস কেন? এরকম কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রশিদ চেয়ারম্যান তার পুত্র স¤্রাটকে মোবাইল ফোনে বাজারে আসতে বলে । স¤্রাট তার আরেক সহোদর সুমন হোসেন সহ বেশ কয়জন সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে চলে আসে। এরপরই রশিদ চেয়ারম্যান নিজেই বাবুল মেম্বারকে সকাল ১১ টার দিকে শত শত লোকের চলাচলের মধ্যেই চড় থাপ্পড় লাথি মারতে থাকে। স¤্রাট সুমনও সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলে পড়ে। এহেন সন্ত্রাসী হামলায় বাবুল মেম্বার মারাতœক ভাবে যখম হন। স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বহনকারী ইজিবাইক থেকে সন্ত্রাসী রশিদ বাহিনী তাকে টেনে হেচড়ে নামিয়ে নিয়ে আসে। এরপর মানবিক লোকজন চেষ্টা করে তাকে নিয়ে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনা জানতে পেরে শার্শা উপজেলা আাওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান ও আওয়ামীলীগ নেতা ইব্রাহীম খলিল ঘটনাস্থলে যান। এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।

গোগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক মোতাহার হোসেন, ইউপি সদস্য তবিবার রহমান ও স্থানীয় অধিবাসি লুৎফর রহমান প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে উল্লেখিত ঘটনাবলী সত্য বলে জানান। এবং এও জানান যে রশিদ চেযারম্যান এর পুত্র স¤্রাট একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় মাদক ব্যবসার এ মামলাও আছে শার্শা থানা পুলিশে। এসব বিষয়ে আব্দুর রশিদ চেয়ারম্যান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটি ঘটনা ঘটেছে তবে আমরা সেটা পরিষদে বসে মিটমাট এর চেষ্টা করছি।
এদিকে বাবুল মেম্বার এর স্ত্রী রাজিয়া খাতুন জানান আমার স্বামীকে মাথায় প্রচন্ড আঘাত এর কারনে যশোর কুইন্স হাসপাতাল থেকে সিটি স্কান করার পর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসেনি।

Please follow and like us: