পাকিস্থানীদের প্রেতাত্মারা এখোনও এই শার্শার রাজনীতিতে অঘটন ঘটাচ্ছে-জেল হত্যা দিবসে মেয়র লিটন

বাঙ্গালী জাতিকে লড়াই সংগ্রাম করে অস্তিত্ব অর্জন করতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বাঙ্গালী জাতি লড়াই সংগ্রাম করে যে রক্ত দিয়েছে অন্য কোন জাতিকে ইতিহাসে এত রক্ত দিতে দেখা যায়নি। জেলখানা এমন একটি জায়গা যেখানে সবাই নিরাপদ থাকে সরকারি কাষ্টিডিউতে থাকে। আর সেখানে ঐ পাকিস্থানি দোসররা জাতীয় ৪ নেতাকে বর্বর ভাবে হত্যা করে কলঙ্ক লেপন করে এদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। জাতীয় ৪ নেতার এমন আদর্শ ছিল যে তাদের হত্যা করার পর কারো ব্যাংকে কোন অর্থ ছিল না। তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত হয়ে এদেশের মানুষকে ভালবাসত। এদেশের মানুষকে ভালবেসে যার জীবন যৌবন সংগ্রাম করে লড়াই করে জেল খেটে অতিবাহিত হয়েছে সেই বঙ্গবন্ধুকে ও হত্যা করেছে রাজাকার ও পাকিস্থানি দোসররা। যার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে তিনি হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনা তিনি আজ সকল পথের মতের মানুষকে প্রধান্য দেন। যারা মানুষকে ভালবাসে না কষ্ট দেয় ধোকা দেয় তাদের রাজনীতি শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করে যে বীরের জাতীকে কলঙ্কীত করা হয়েছে আমরা তাদের ক্ষমা করব না । কথা গুলো বললেন জেল হত্যা দিবসে বেনাপোল আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যলয়ে প্রধান অতিথী হিসাবে যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ এর দলীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামামীলীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টার। এসময় বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম এর কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন আলম, বেনাপোল পৌর আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম এর সভাপতি রহমত আলী, পৌর আওয়ামীলীগ এর সিনিয়র সদস্য মোজাফফার হোসেন, মতিয়ার রহমান মধু, পৌর যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথি জননেতা আশরাফুল আলম লিটন বলেন, পাকিস্থানীদের দোসররা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা আওয়ামীলীগের মধ্যে তথা সরকারের ছত্রছায়ায় ঘাপটি মেরে থেকে ৭৫ এর ভয়াবহ হত্যা কান্ড ঘটিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। আর এই খুনি চক্রের প্রধান হোতা খন্দকার মোশতাক আহম্মেদ ও জিয়াউর রহমানের নির্দেশনায় জেল খানায় জাতিয় ৪ নেতাকে বর্বর ভাবে হত্যা করা হয়। এই পাকিস্থানী প্রেতাতœারা আজও আওয়ামীলীগের অভ্যান্তরে ঘাপটি মেরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ভুলূন্ঠিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারই নমুনা আমরা লক্ষ করলাম শার্শা উপজেলার নাভারন সাতক্ষীরা মোড়স্থ বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক পাঠশালার কার্যালয়টি জোর পুর্বক দখল করার ঘটনায়। গত ৩১ অক্টোবর যারা এই অপকর্ম করেছে তাদেরই একজন সোহরাব চেয়ারম্যান। এই মন্দ লোকটি ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে নাভারনে আওয়ামীলীগ নেত্রী অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরীর জনসভার উপর হামলা করে মঞ্চ ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধি বিএনপি সংগঠনের আদর্শে উজ্জীবিত এবং তাদের ছত্রছায়ায় থেকেই সে এই অপকর্ম করেছিল। এরকম আরো অনেক মুক্তি যুদ্ধ চেতনা বিরোধীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এই শার্শার আওয়ামীলীগে যার প্রধান হোতা মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক ও সন্তান তারা শত বাধা এলেও থেমে থাকব না। আমরা জাতিয় ৪ নেতা সহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য লড়াই করে যাব শেষ পর্যন্ত। যতক্ষন না অপশক্তির হাত থেকে আমরা আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে নিতে না পারি। আমার এমপি হওয়ার প্রয়োজন নেই আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রকৃত আওয়ামীলীগারদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই সংগ্রাম করছি। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই ৭৫ এর হত্যাকান্ডের পর যে ভাবে মুক্তিযুদ্ধাদের বর্বাচিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে একের পর এক এমনকি এই বেনাপোল শার্শায়ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। যার পুনরাবৃত্তি আমরা আর ঘটতে দেব না। আমরা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের ঋন পরিশোধ করবই।

Please follow and like us: