মুজিব শত বর্ষে বেনাপোলে আন্তর্জাতিক মানের নিত্য হাটের যাত্রা

মুজিব শত বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীর উষা লগ্নে বুধবার বেনাপোল জনপদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে নিত্যহাটের। মানুষের চাহিদার সাথে তার রুচি বিবেচনার বিষয়বস্তু আকঙ্খার সাথে আবেগের নান্দনীকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়েই এই নিত্যহাট। কথাগুলো বললেন বেনাপোলের নন্দিত মেয়র এবং তারই স্বপ্নে গড়া নিত্যহাটের প্রতিষ্ঠাতা যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন। বিজয় দিবসের শুভ সকালে পূর্ন স্বাস্থ্য বিধি মেনে আায়োজিত এক জনাকীর্ন সমাবেশে এই নিত্য হাটের শুভ যাত্রার ঘোষনা দেওয়া হলো। নিত্য হাট ব্যবসায়ী পরিবার এর সভাপতি মজনুর রহমান নুপুর এর সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত কমিশনার ড. মোঃ নেয়ামুল ইসলাম, বেনাপোলের নারী উদ্্েযাক্তা রহমান চেম্বার এর সত্বাধিকারী সাহিদা রহমান সেতু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অমিতাভ দাস গুপ্ত, প্রবীন ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন । অনুষ্ঠানের শুরুতেই নিত্যহাট প্রতিষ্ঠাতা সন্মানিত অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরন করে নেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেনাপোল আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক সুকুমার দেবনাথ।

নিত্যাহাট পরিবার এর প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আলম লিটন বলেন, এই বাজারটি গড়ে তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের। এর কারন হলো এই জনপদ একদিন ছিল অনেক অনগ্রসর। এই পিছিয়ে থাকা জনপদে আমি শিশুকালে দেখেছি ছোট্র একটি সরু রাস্তা মাত্র ছিল। বিদ্যাপিট, হাসপাতাল. বাজার তেমন কিছুই ছিল না। এই সব আমাকে পীড়া দিত। আমি সেই শিশু কাল থেকেই স্বপ্ন দেখতাম বেনাপোলকে একটি উন্নত জনপদ হিসাবে গড়ে তোলার। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সেই সুবর্ণ সুযোগ আমার হাতে আসে। আমি যতদুর পেরেছি এই জনপদের উন্নয়নে সড়ক ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মান সহ ট্রাক টার্মিনাল বাস টার্মিনাল ইত্যকার আরো নানান কিছু গড়ে তুলেছি। কিন্তু এই জনপদের মানুষ গুলোর সামগ্রীক জীবনাচারনের চাহিদার পণ্য সমুহের সবকিছুই এই জনপদেই একসাথে যাতে পাওয়া যায় সেই জন্যেই আমার নিত্যহাট বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখা। ঢাকা কোলকাতা দিল্লী সহ বিশ্বের যে কোন জায়গার সমমানের খাবার এই নিত্য হাটেই পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয় যাপিত জীবনের সব কিছুই কাপড় চোপড়, জুতো ছাতা, তেল নুন, চাল ডাল, মাছ মাংস ঔষধ প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রি থেকে শরু করে যা কিছুই বাঙালীর জীবনে দরকার তার সবকিছুই এখানে পাওয়া যাবে। এমনকি এই হাটে নাগরীক জীবনের নিত্য সেবার জন্যে একটি ক্লিনিক বা হাসপাতাল গড়ে তুলা হচ্ছে। যেখানে ভারতের চেন্নাই থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসে বসবেন। যার ফলে শুধু বেনাপোল নয় দেশের সকল এলাকার মানুষ যারা উন্নত চিকিৎসার জন্যে ভারতে যান তারা এখানেই সেই সেবা পাবেন। এতে অনেকাংশে আমাদের দেশের টাকা দেশে থেকেই যাবে।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, এই শহরের শিশুদের বিনোদনের জায়গা তেমন নেই। তাদের খেলনা পাতিল সহ ক্রীড়ার নানান সরঞ্জাম পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, এই শহরের বাবাদের খোঁজ কেউ এখন রাখেন না। সংসার জীবনে ছেলে মেয়ে সকলেই কর্ম ব্যস্ত। প্রবীণদের খবর কে রাখে ? সে কারনেই আমি এই নিত্য হাটে একসাথে ২৫ জন বাবার বসে গল্প আড্ডা সহ নান্দনীক সময় কাটানোর ব্যবস্থা করেছি। তারা আসবেন । একসাথে এখানে তিন ঘন্টা সময় কাটাতে পারবেন। চা কফি যা দরকার নিত্য হাটের পক্ষ থেকে বিনা মুল্যে পরিবেশন করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন নিত্য হাটে ২৭৮ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যাদের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে অগ্রিম হিসেব। যার ১০ হাজার টাকা সরাসরি কল্যান তহবিলে দেওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে আমি ২৬/২৭ লক্ষ টাকা কল্যান তহবিলে আগাম জমা করে দিয়েছি। ভবিষ্যাতে আরো জমা হবে। এসব অর্থ দিয়ে নিত্য হাট পরিবারের সদস্যদের শুধু নয় গোটা বেনাপোলের নাগরিকদের বিভিন্ন রকম সেবা চাহিদা পুরনে যথা সম্ভব সহযোগিতা প্রদান এর চেষ্টা করা হবে। এমনকি নাগরিক সচেতনতা সহ পরিবেশ বান্ধন বেনাপোল গড়ে তোলার জন্য এই তহবিলের টাকা ব্যায় করা হবে। তিনি বলেন এই বেনাপোল জনপদে অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা মার্কেট রয়েছে। তাদের কারো সাথেই নিত্য হাটের কোন প্রতিযোগিতা নেই। নিত্য হাট শুধু পরিপুরক সহ যাত্রী মাত্র।

আলোচনা অনুষ্টান শেষে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বেনাপোল জনপদের বিশিষ্ট মার্কেট মালিকবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দকে উত্তরীয় পরিয়ে সন্মান প্রদর্শন করেন। এর পরই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান নিত্য হাট পরিবারের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দ্বার উন্মোচন করেন ফিতা কেটে। এরপর তিনি অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে মার্কেটের অভ্যান্তরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টান ঘুরে দেখেন।
এরপরই বেলা সাড়ে ১২ টার সময় শুরু হয় দেশের কিংবাদন্তী তুল্য শিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস এর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান। এই অনুষ্টানে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ শিশু মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সঙ্গীত উপভোগ করেন।

Please follow and like us: