লকডাউন চলছে ত্রান সামগ্রী আসেনি বেনাপোলে হতদরিদ্র মানুষের নাভিশ্বাস

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
মহামারি করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যে ঘোষিত লকডাউনের চতুর্থ দিনেও বেনাপোল স্থল বন্দর তথা পৌর এলাকায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য প্রশাসনের ইতিবাচক তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তবে দেশের এই বৃহত্তম বন্দর এলাকায় বসবাসরত সাধারন ইজিবাইক, ভ্যান চালক, দিন মজুর, ক্ষুদ্র তথা ফুটপাত ব্যবসায়ি সবজি বিক্রেতা সহ নানা পেশার হত দরিদ্র কয়েকশত পরিবার পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় তাদের জন্যে প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে বরাদ্দ ত্রান সামগ্রীর ছিটে ফোটাও আসেনি। ফলে দিন আনা দিন খাওয়া লোকগুলোর জীবন জীবিকা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যপারে খোজ বেনাপোল পৌরসভার সচিব রফিকুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের কাছে পৌর এলাকার দুস্থ নাগরিকদের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং ২২ লাখ টাকা করোনাকালিন সাহয্য বাবদ এসেছে। যা আমরা অবিলম্বে অসহায় দুস্থ নাগরিকদের মধ্যে বন্টন করব। তবে আমরা এই অর্থে চাউল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্য পন্যও ক্রয় করে নাগরিকদের মধ্যে বিতরন করব। বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে কোন সাহায্য আসছে কি না জানতে চাইলে বলেন আমরা এ যাবৎ কোন রকম ত্রান সামগ্রী হাতে পাইনি। তবে আমাদের কাছে অত্র ইউনিয়নের ৯ টি ওয়ার্ড এর ষাটোর্ধ্ব বয়সের ৯৬০ জন মহিলা ও ১২৫৫ জন হত দরিদ্র পরিবারের তালিকা চাওয়া হযেছে ১১/০৪/২১ তারিখের মধ্যে তা পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী আসা করছি দ্রæত ত্রান সাহায্য বরাদ্দ আসবে। গত বছর প্রথম দফা করোনা মহামারির দাপটের সময় এই বন্দরে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান ছাড়্ওা পুলিশ, কাস্টমস সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রান সহযোগিতা করা হয়েছিল। এবার সেরকম কাউকে এক কয়দিন এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে জনসাধারনের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। এবং আজ করোনার দ্বিতীয় দফা ডোজ গ্রহনের আহবানও জানানো হচ্ছে। আইনশৃংখলা রক্ষকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও মাইকিং করা হচ্ছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে সরেজমিন পৌর ও বন্দর এলাকা ঘুরে স্পষ্ট যা পাওয়া গেছে তা হলো সাধারন হত দরিদ্র মানুষগুলোকে কর্মহীন করে ফেললে পরিস্থিতী ক্রমাগত অবনতির দিকে যাবে।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here