যশোরে দুটি টার্মিনালে চলছে জমজমাট জুয়া

যশোরে দুটি টার্মিনালে চলছে জমজমাট জুয়া

-যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের দুটি বাস টার্মিনালে চলছে জমজমাট জুয়া খেলা। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে খেলা। এ খেলায় হাজার হাজার টাকা খুইয়ে অনেকেই নি:স্ব হচ্ছে। জুয়াবাজদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। শুধু জুয়া নয়, জুয়ার বোর্ডের আশেপাশে মাদক সেবনও চলছে অহরহ। এদিকে, টার্মিনাল এলাকার বাসিন্দারা চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর নতুন বাস টার্মিনালে হালিমের নেতৃত্বে চলছে জুয়ার বোর্ড। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় জুয়া খেলা। টার্মিনাল কেন্দ্রিক এক শ্রেণির শ্রমিকরা সূর্য ওঠার সাথে সাথে টার্মিনালে হাজির হয়। তারা টার্মিনালে কাজ না থাকায় তারা বসে যায় জুয়ার বোর্ডে। কেউ কেরাম আবার কেউ তাসের জুয়ায় বুথ হচ্ছে। কেউ বারণ করতে সাহস পায় না।
সুজন সাহা নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, হালিমের কারণে শুধু শ্রমিকরা নয়, এলাকার অনেক ভদ্র মানুষও জুয়া খেলতে আসছে। শ্রমিকরা কেউ কাজ শুরুর আগেই টাকা ধার করে জুয়া খেলে নি:স্ব হচ্ছে। আবার কেউ কাজ শেষে দিনের উপার্জিত টাকা জুয়া খেলে শেষ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
আব্দুল আজিজ নামে এক বাস চালক বলেন, তার দুই সহযোগি জুয়া খেলে শেষ হয়ে গেছে। হালিমকে জুয়ার বোর্ড বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। উল্টো জুয়াবাজরা তাকে শাসিয়েছে। ফলে তিনি এব্যাপারে কিছু বলতে রাজি নয়।
নূর ইসলাম নামে এক স্টার্টার বলেন, অভ্যাসগত জুয়াড়িরা পকেটে টাকা আছে কি নেই; সে নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা একবার জুয়ায় বসে ক্রমাগতভাবে হারতে থাকলেও দেখা যায় অন্য জুয়াড়িদের থেকে ধারকর্জ করেও খেলা অব্যাহত রাখে। জুয়া খেলায় হার-জিত থাকায় উভয়টি সমন্বয় করলে দেখা যায়; বেশির ভাগের হারের পাল্লাই ভারী। অভ্যাসগত জুয়াড়িদের অনেকে জুয়া খেলতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে, এমন নজির ভূরি ভূরি। অভ্যাসগত জুয়াড়িদের মধ্যে অনেকে হেরে যখন শূন্য পকেটে ঘরে ফেরে, তখন স্ত্রীর উপর চড়াও হয়। তাদের মধ্যে একটি অন্ধ বিশ্বাস কাজ করে তারা খেলায় মত্ত থাকাকালীন স্ত্রীর অভিশাপে হারের ঘটনা ঘটেছে। তাই ঘরে ফিরে স্ত্রীকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে হারের মনোজ্বালা হালকার চেষ্টা করে।
এদিকে, পুরাতন বাস টার্মিনালে আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে চলছে অনুরূপ জুয়া। জুয়ার বোর্ডে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছে। অনেকেই নি:স্ব হয়ে বাড়ি ফিরছে। এতে করে সামাজিক কলহ বৃদ্ধি পাাচ্ছে।
বিষয়টি প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
জুয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কোতয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যশোরে সন্ত্রাস চলবে না। মাদক চলবে না। জুয়া চলবে না। ক্যাসিনো চলবে না। যারা এসবের সাথে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply