শালিখায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের গৃহবধূ দীপা বেগম (২৭) তার স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়। দীপা বেগম শতখালী গ্রামে ইন্দ্রা পাড়া মোঃ ইসমাইল মোল্লার ছেলে সোহরাব হোসেনের স্ত্রী এবং যশোর সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শাহাবার শেখের মেয়ে। এলাকাবাসী জানান, সোহরাব ও তার পরিবারের লোকজন প্রায়ই দীপার উপর নির্যাতন করতো। যার ফলে এর আগেও দীপা গলায় ফাঁস দিয়েছিল। কিন্তু, লোকজন জেনে যাওয়ায় সে যাত্রায় দীপা বেঁচে গেলেও রবিবার রাতে সোহরাব তার স্ত্রীকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে। যার ফলে সে ওই রাতেই আত্মহত্যা করে। নিহতের স্বামী জানান, প্রতিবেশী আজিজুর তরফদার গ্রিসে করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদ এলে আমরা ওই বাড়িতে যায়। এর আগে পাট বিক্রি করে এক লক্ষ টাকা এনে টেবিলের ড্রয়ারে রেখে মরা বাড়ীতে যায়। ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা খোলা। ঘরের মেঝেতে ভাত ছড়ানো রয়েছে। দীপার কাছে ভাত চাইলে সে ভাত দিতে গিয়ে দেখে হাঁড়িতে ভাত নাই। তখন আমি ড্রায়ার খুলে দেখি সেখানে টাকা নাই। টাকা কোথায় জানতে চাইলে সে জানে না বলে আমাকে জানায়। এতে আমি দীপাকে একটা থাপ্পর মারি। পরে দুইজন ছেলে মেয়েকে নিয়ে শুয়ে পড়ি। হঠাৎ জেগে দেখি দীপা বিছানায় নাই। তখন বাড়ির সকলকে ঘটনাটি জানায়। পরে রান্না ঘরে আড়াতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলান্ত অবস্থায় দেখতে পায়। দীপার বাবা শাহাবার শেখ জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তরীকুল ইসলাম জানান নিহতের পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ডাক্তারী রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us: