বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ-এর ১১ দফা বাস্তবায়নে সংবাদ সম্মেলন

আজ ৩ অক্টোবর ২০২০ ইং সকাল ১১:০০ টায় বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ-এর উদ্যোগে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি, সাগর-রুনি মিলনায়তন, সেগুন বাগিচা ঢাকায় সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ দফা বাস্তবায়নে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন মিয়া মাসুদুর রহমান। ১১ দফা দাবীর পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলেন কাজী রফিকুল ইসলাম ও যশোর জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক কমরেড হারুন অর রশিদ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মোঃ নাসির উদ্দীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বিপুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মাসুদুর রহমান, এ্যাড. উজ্জল হোসেন, শেখ শিপন আলী, ফারুক হোসেন, আবু সাইদ, ইকবাল চৌধুরি, হাবিবুর রহমান সিজার, আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার যৌক্তিকতা:
আমাদের পার্শ্ববর্তী বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত, মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থীদের আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণসহ সরাসারি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়তা করেছে। সেই বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার রোগীকে যেতে হয় স্থল পথে অথবা ট্রেনযোগে। যেসকল চিকিৎসার্থী ও ভ্রমণকারিদের বিমানে করে ভারতে যেতে হয় তাঁদের ঢাকা হয়ে যেতে হয়। আবার অনেকে স্থল পথ দিয়ে কলকাতায় যেয়ে বিমানে দূরবর্তী অন্য প্রদেশে যেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে তাদের অর্থ ব্যয় বৃদ্ধি পায় ও অত্যন্ত পরিশ্রম হয়ে থাকে। যশোর বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যেমন দুর্ভোগ লাঘব হবে, তেমনই অর্থ সাশ্রয় হবে। এছাড়াও যারা ধর্মীয় স্থানে গমন ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে যান, সেসকল ব্যক্তিদেরও উপকারে আসবে এই বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করলে।
বৃহত্তর যশোর অঞ্চলসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার হজ্জ্ব যাত্রীদের হজ্জ্বের সময় ঢাকা হয়ে সৌদিআরবে যেতে হয়। হজ্জ্ব যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়ষ্ক ব্যক্তি। তাঁরা সবচেয়ে বেশি কষ্টভোগ করেন স্থল পথে ঢাকা হয়ে সৌদিআরবে যেতে ও আসতে। এছাড়াও অত্র এলাকার বিপুল সংখ্যক লোক বিদেশে অবস্থান করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে এবং বেশি সংখ্যক লোকই জীবিকা নির্বাহের জন্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে আছেন। তাঁরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়াও অনেকেই উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশে যেয়ে থাকেন।

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করার যৌক্তিকতা:
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে একটি সেতু নির্মাণ বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এখানকার উৎপাদিত ফল, ফুল, কাঁচামাল, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এসকল দিক বিবেচনায় এনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরীঘাটে সেতু নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, দুই ঈদের সময় এবং কোন কারণে সরকারী ছুটি দীর্ঘ হওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তখন ঘাটের দুই প্রান্তে ১০ থেকে ১২ কিমি. পর্যন্ত দীর্ঘ জানজট লেগে থাকে এবং লঞ্চ ও ফেরী চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে একদিকে যেমন যাত্রী সাধারণের ভোগান্তির শিকার হতে হয়, অপরদিকে যে সকল যানবাহনে কাঁচামালসহ অন্যান্য পচনশীল জিনিস বহন করা হয় তার প্রায় বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কাঁচামাল উৎপানকারীসহ ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। এখানে সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষ আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং রাজধানী ঢাকা শহরে আসতে সময় সাশ্রয় হবে। ঢাকা শহরের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর লোক যারা ঢাকাতে বসবাস করেন, তারা বাড়ী থেকে অফিস-আদালত করতে পারবে। সেজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরীঘাট সংলগ্ন স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উপরে উল্লেখি দুটি দাবী বিস্তারিতভাবে বর্ণনাসহ ১১ দফার দাবিগুলো নিচে উপস্থাপন করা হলো:

১. যশোর বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ।
২. দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরীঘাটে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও ঢাকা পশ্চিম অঞ্চল রেল স্টেশনের মাধ্যমে সংযুক্তকরণ।
৩. যশোরকে পৃথক বিভাগ ঘোষণা ও পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ।
৪. বৃহত্তর যশোরের ৪টি জেলা নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরে ৪টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা।
৫. ৪টি জেলায় পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বৃহত্তর যশোরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাকবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত, ফকির লালন শাহ, চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতান সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং নড়াইল ও ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
৬. বেনাপোল স্থল বন্দর আধুনিকায়ন এবং যশোরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা স্থাপন।
৭. ঢাকা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ এর কাজ জরুরী ভিত্তিতে সম্পন্ন করা এবং প্রতিটি উপজেলায় হাইটেক পার্ক স্থাপন করা।
৮. বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলায় আন্তজেলা রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং সাতক্ষীরা-যশোর রেল লাইন বশিরহাটের সঙ্গে সংযুক্তকরণসহ মাগুরা থেকে নড়াইল এবং মাগুরা থেকে ঝিনাইদহ হয়ে মুজিবনগর পর্যন্ত সম্প্রসারণ। আপনার হয়তো জানেন, কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত ব্রিটিশ আমলে রেল লাইনের সংযোগ ছিল। রেল লাইনটি পুনরায় চালু করার দাবি জানাচ্ছি।
৯. বৃহত্তর যশোরের ৪ জেলায় অনতিবিলম্বে গ্যাস সরবরাহ।
১০. বৃহত্তর যশোরে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ।
১১. বৃহত্তর যশোরে বাওড় সম্পৃক্ত পর্যটন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ও পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ।
প্রচারে: বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদ।

Please follow and like us: