এক বছরের বেশী সময় পর খুলছে বিদ্যালয়, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি প্রস্তুতি দূর্বল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, আশংকায় অভিভাবক

এক বছরের বেশী সময় পর খুলছে বিদ্যালয়, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি প্রস্তুতি দূর্বল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, আশংকায় অভিভাবক

-নড়াইল প্রতিনিধিঃ
এক বছরেরও বেশী সময় পরে সারাদেশের মতো নড়াইলে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । এতদিন পরে বিদ্যালয় খোলার ঘোষনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছে উচ্ছলতা, শিক্ষকদের কর্মচাঞ্চল্য বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা বিষয়ে শংকায় রয়েছেন অভিভাবক সহ স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
সরকারী নির্দেশনা মেনে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বেশিরভাগ স্কুলে চলছে নতুন নিয়মে বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি। ছাত্রদের ইউনিক আইডি এবং বোর্ডের আইডি খোলার জন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে হাজির হচ্ছেন।রক্তের গ্রুপ নির্নয় সহ মোবাইল নম্বরের জন্য বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে শিক্ষক-ছাত্র কারোরই তেমন গুরুত্ব দেখা যায়নি।
্নড়াইল সদরের আউড়িয়া এপিবিএসএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জানালা-দরজাসহ ভিতরে বেঞ্চগুলোতে পরিস্কার পরিচ্ছন করে ক্লাস নেওয়ার জণ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি কামরুজ্জামান খান তুহিন বলেন বিদ্যালয়ে ক্লাস করানোর জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীরা মাস্ক ও স্যানিটাইজার যথাযত ভাবেই ব্যবহার করবে ।
এপিবিএসএল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক আব্দুস সাত্তার জানান,আমরা তো বাড়ি থেকে সন্তানকে মাস্ক পরিয়ে ঠিকমতোই পাঠাবো। কিন্তু স্কুলে সব ছাত্ররা যদি মাস্ক না পরে কিম্বা স্যাররা যদি স্বাস্থ্য বিধির গুরুত্ব না দেয় তাহলে তো ঝুকি থেকেই যায়। তবে শিক্ষক অভিভাবক সচেতন থাকলে আশা করি সমস্যা হবেনা।
আলোকদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেল । এখানে শিক্ষকেরা নিজ ক্যাচমেন্ট এলাকার বাড়ি বাড়ি নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করে স্কুলে ফিরছেন। বিদ্যালয় আঙ্গিনা একদম পরিবাটি করে রেখেছেন প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে। শিক্ষক-কর্মচারী মিলে বেঞ্চ এবং আঙ্গিনা পরিস্কার রাখায় ব্যস্ত।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজওয়ান আলী পুরো বিবদ্যালয়,শ্রেনীকক্ষ ও ওয়াশরুম ঘুরে দেখালেন। এখানে ১২ তারিখের শিশুদের স্কুলে বরন করার জন্য বাথরুমে সাবান,হ্যান্ডওয়াশ এবং স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে ছাত্রদের হাত ধোয়ার জন্য ৩টি বড় বালতিতে ট্যাপ লাগিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতিটা ক্লাসরুমের সামনে রাখা হয়েছে ময়লা ফেলার প্যাডেল বাক্স। শিশুদের জ¦র মাপার জন্য কেনা হয়েছে থার্মার স্ক্যানার। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সারি সারি হ্যান্ডস্যানিটাইজার বোতল,মাস্ক আর টিস্যু সহ রয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু সরঞ্জাম। এটাই শেষ নয়,শিশুশ্রেনী বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের এই কক্ষটি বানানো হয়েছে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাহফুজা ইয়াসমীন জানান,আমরা করোনা শুরু থেকেই ওয়াার্কশীট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশু ও তার অভিভাবকদের সচেতন করছি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে। আমাদের কোন ঘাটতি নাই।
জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে,জেলায় মোট ১৩১ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,৪৪ মাদ্রাসা, ২৮ কলেজ, ৫ কারিগরি কলেজে প্রায় ৫০ হাজার এবং ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৩ হাজার সহ প্রায় ১লক্ষ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিশুশ্রেনী বাদে প্রায় ১লক্ষ ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর ক্লাস চালু হবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। স্বাস্থ্যবিধি মানা বিষয়ে অভিভাবকরা উদ্বীগ্ন থাকলেও বিদ্যালয় চালু হওয়াতে তারা খুশি। তবে জেলার অনেক স্কুল এখনো পরিস্কার পরিচ্ছন করা হয়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.হুমায়ুন কবীর বলেন,আমাদের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক আমরা স্কুল খুলতে পারবো,আলোকদিয়া সহ কিছু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকেরা নিজেরাই অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন,ইতিমধ্যে সরকারী ১৯ দফা বিষয়ে আমরা সভা করেছি,আমাদের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়মিন বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। আশাকরছি সঠিক নিয়ম এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা বিদ্যালয় খুলতে পারবো।

Leave a Reply