কালিয়ায় প্রানি সম্পদ বিভাগের প্রনোদনার টাকা নিয়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অভিযোগ

কালিয়ায় প্রানি সম্পদ বিভাগের প্রনোদনার টাকা নিয়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অভিযোগ

-মোস্তফা কামাল,নড়াইল

নড়াইলের কালিয়ায় প্রানি সম্পদ বিভাগকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া খামরিদের করোনাকালিন প্রনোদনার টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে । উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিসের মাঠকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খামারিদের তালিকা প্রনোয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিসহ খামারি না হলেও প্রনোদনার টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। খামারিদের তালিকায় অখামারিদের নাম দিয়ে প্রনোদনার টাকা নয়ছয় করার প্রতিকারসহ দূর্নীতবাজদের বিচারের দাবিতে উপজেলার উথলী গ্রামের বাদপড়া খামারিরাসহ গ্রামবাসিরা গত সোমবার বিকালে কালিয়া-খুলনা সড়কের বেন্দার মোড় নামক স্থানে মানববন্ধন করেছেন।

উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, প্রনোদনার সহায়তার টাকা প্রদানের জন্য উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নিয়োগকৃত মাঠকর্মীদের দায়িত্ব দেয়া হয়। সে হিসাবে প্রথম কিস্তিতে ২০৩ জন গরু খামারি, ৫২ জন হাস খামারি, ও ১২৫ জন বয়রার খামারি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৭ জন গরুর খামারি, ১১৮ জন বয়লার ১১৩ জন মুরগীর খামারির নাম তালিকাভ’ক্ত করা হয়েছে। তালিকাভ’ক্তরা ইতোমধ্যেই প্রনোদনার টাকাও তুলে নিয়েছেন। তবে উপজেলায় ১৯৩টি গরুর খামার, ১৭৫টি মুরগীর খামার ও ৬৪টি হাসের খামারের রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে বলে ওই অফিস সুত্রে জানা গেছে।

উপজেলার কালিয়া পৌরসভার ওইসব খামারিদের তালিকা প্রনয়নে খামার না থাকলেও খামারি বানিয়ে মাঠকর্মী সানিয়া খানমসহ ওই অফিসে কর্মরত একটি চক্র স্বজনদের নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উথলী গ্রামের শওকত ফকির, মারিয়া বেগম ও শামিম শেখসহ অনেকেই ।

সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান চালাতে গিয়ে জানা যায়, প্রনোদনার তালিকায় থাকা এলডিডিপির মাঠকর্মী সনিয়ার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন গরুর খামারী হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেলেও তার কোন গরুর খামার পাওয়া যায়নি, রামনগর গ্রামের আছাদ শেখের ছেলে সুমন শেখ ১০ হাজার টাকা প্রনোদনা পেলেও তার খামার নেই। উথলী গ্রামের তাহিরুল ইসলাম সুমন একজন মুরগীর খামারি হিসাবে ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। কিন্ত তার কোন মুগীর খামারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম কাজির মেয়ে জান্নাতুর ফেরদৌস মুরগীর খামারি হিসাবে ১১ হাজার টাকা পেয়েছেন। একই গ্রামের বিলায়েত খন্দকারের ছেলে জাহিদুল ইসলামও প্রনোদনার টাকা পেয়েছেন বলে তার পারিবারিক সুত্র জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের বাড়িতে খোজ নিয়ে খামারের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এলডিপির মাঠকর্মীর সনিয়ার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন গরুর খামারি হিসাবে নাম লেখালেও তিনি বলেছেন তার একটি মুরগীর খামার আছে। মুরগীর খামারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, মাঠকর্মী হিসাবে তার স্ত্রী তালিকা প্রস্তুত কমিটির কাছ থেকে ১টি নাম দেয়ার অনুমতি পেয়ে তার নামটি তালিকায় দিয়েছেন।

প্রানী সম্পদ বিভাগের এলডিডিপি শাখার কালিয়া পৌরসভার মাঠকর্মী সনিয়া খাানম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার স্বামীর নামটি তিনি কর্মী হিসাবে তালিকা প্রস্তুত কমিটির কাছ থেকে পেয়েছেন। একই ভাবে উপজেলার সব মাঠকর্মীই একটি করে নাম তালিকায় দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

উপজেলার বাঐসোনা ইউনিয়নের মাঠকর্মী মো. সাইফুল লতিফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যথা সম্ভব যাচাই-বাছাই করে প্রনোদনার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তবে মানুষ মাত্রই ভুল করে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু থাকতে পারে।

কালিয়ার ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম বলেছেন, প্রানি সম্পদ বিভাগের প্রনোদনার তালিকার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টিতে তিনি খোজ নেবেন।

Leave a Reply