নড়াইল জেলার আইন শৃংখলার চরম অবনতি এমপি দায়ি করলেন এসপিকে

নড়াইল জেলার আইন শৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে।  গত ৯ মাসে ১৩জন খুন হয়েছে। ৪ জন রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছে। এসব সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছে তিন শতাধিক মানুষ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের জামরিলডাঙ্গা গ্রামের আরিফ খন্দকারকে (৪৫) নামে একজকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সে জামরিলডাঙ্গা গ্রামের নুরম্ন খন্দকারের ছেলে। রোববার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে চিকিৎসাধী অবস্থায় তিনি মারা যান। আরিফ খন্দকারকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টর দিকে কুপিয়ে গুরম্নতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। জেলার আইন শৃংখলার অবনতির জন্য পুলিশ সুপারকে দায়ি করলেন সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে, শনিবার অরিফ খন্দকার রাতে বাড়ি ফেরার পথে জামরিলডাঙ্গা এলাকায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরম্নতর আহত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে নিয়ে ভর্তি করে। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গত ১১ সেপ্টম্বর রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রেজওয়ান (২৬)কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২৪ আগস্ট সদর উপজেলার বাশঁগ্রাম ইউনিয়নের কামালপ্রতাপ গ্রামে প্রতিপক্ষের হাতে এক গ্ররুপের নেতা সাবেক ইউপি সদস্য রাজ্জাক মলিস্নক (৭০) নিজ বাড়িতে খুন হয়। এর আগে ১৩ মার্চ একই গ্রামের সাফি মোল্যা (৩৫) প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়।
২২ আগস্ট চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে প্রতিবেশির হামলায় কৃষক মফিজুর মোল্যা (৪৫) নিহত হয়। ৫ আগস্ট পুরুলিয়া ইউনিয়নের দেওয়াডাঙ্গা গ্রামে মাসুদ রানা প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়। ১০ জুন আধিপত্য বিস্ত্মারকে কেন্দ্র করে কাশিপুর ইউনিয়নের গোন্ডব গ্রামের মোকতার মোল্যা (৫০), তার ভাতিজা আমিনুর রহমান হাবিল (৪৫) ও রফিকুল মোল্যা (৪০) খুন হয়।
২৬ মে কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া ইউপি মেম্বর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাইউম শিকদার আধিপত্য বিস্তার  ও দলীয় কোন্দলের জের ধরে খুন হয়। ৬ মে পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বলস্নাহাটি গ্রামের ওসমান খানের ছেলে আলী খানকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ১২মে লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ছায়মনার চর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার  কেন্দ্র করে রহিমা বেগম (৫৫) নিজ বাড়িতে খুন হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার দিকে লোহাগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বদর খন্দকার (৪৫) চরকালনা এলাকায় খুন হয়।
অপরদিকে ১৩ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বর মাহাবুবুর রহমানকে (৩৮) রাতে ভুমুরদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত ভেবে চলে যায়। তিনি এখন মৃত্যুর সাথে লড়ছেন। ২৩ আগস্ট মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালি গ্রামে স্বামী কর্তৃক নববধূ সুরাইয়া বেগমকে (১৮) শাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ১০মে পুরম্নলয়া ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের ছিদ্দিক শরীফের বাড়ির সামনে থেকে তারই জামাই পার্শ্ববর্তী ফুলদাহ গ্রামের ইবাদত শেখের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ৩ মার্চ সদর থানা পুলিশ সীতারামপুর ব্রীজ এলাকা থেকে চলিস্নশর্ধ অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি শহরের দূর্গাপুর এলাকায় স্বামী র্কর্তৃক আশা খাতুন (২০)কে শারীরিক নির্যাতন ও শাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া শাহাবাদ ইউনিয়নের ধোন্দা, দীঘলিয়া ইউনিয়নের চর মাউলি, কাশিপুর ইউনিয়নের গোন্ডব, কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের শীবপুর, হবখালী ইউনিয়নের নয়াবাড়ি, চন্ডিরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয় এবং সম্প্রতি লোহাগড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিল ও বড়দিয়া বাজারের ব্যবসায়ী খোকন সাহা গুরুতর জখম হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, এখানকার গ্রামাঞ্চলগুলোতে কাইজে-দাঙ্গা একটি পুরোনো ঐতিহ্য। তিনি নড়াইলের আসার পর থেকে এসব দাঙ্গা নিয়ন্ত্রনে কাজ করে যাচ্ছেন এবং এসব সহিংস ঘটনা কমেছে বলে দাবি করেন। তিনি করোনার কারণে মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া, সামনে ইউপি নির্বাচন, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার  পূর্ব শত্রুতা এবং রাজনৈতিক কোন্দলকে এসব সন্ত্রাসী ঘটনার কারণ হিসেবে দায়ী করেন।
নড়াইল-১(কালিয়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য কবিররুল হক মুক্তি জেলার আইন শৃংখলার অবনতির জন্য পুলিশ সুপারকে দায়ি করে বলেন, নড়াইল জেলায় মানুষের বসবাসের অনুপোযোগি নরকে পরিণত করেছে পুলিশ সুপার। পুলিশ হত্যাকারীদের  বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় হত্যাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
Please follow and like us: