৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়া রাণী এখনো সদর হাসপাতালে ভর্তি ■ বাড়ি ফিরিয়ে নেবে তার বড় ছেলে

অবশেষে ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়া রাণীর আশ্রয় হলো নড়াইল সদর হাসপাতালে। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বৃদ্ধাকে হাসপাতালে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এদিকে বৃদ্ধার বড় সন্তান দেব কুন্ডু তার মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছেন।
জানা গেছে, নড়াইল শহরের কুরিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মৃত কালিপদ কুন্ডুর স্ত্রী মায়া রাণী কুন্ডুর (৮৫) তার দুই পুত্র সন্তান দেব কুন্ডু (৫০) এবং উত্তম কুন্ডু (৪০)। উত্তম কয়েক বছর পূর্বে বিবাহ করে অন্যত্র বসবাস করায় শহরের রূপগঞ্জ বাজারের বাঁধাঘাট এলাকার ব্যবসায়ী দেব কুমার মাকে দেখাশোনা করছিল। মায়ের নামে ৫ শতক জমি লিখে নেয়ার পর মায়ের সাথে দুর্বব্যহার শুরু করে। গত দেড় বছর আগে মায়ের ভরণ-পোষন দিতে অস্বীকার করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে বৃদ্ধা মা এ বাড়ি ও বাড়িতে অবস্থানের পর সর্বশেষ গত ১২দিন বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতান কমপ্লেক্স সংলগ্ন সুলতান ঘাটের ওপর রাখা শিল্পী সুলতানের নৌকার নীচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানবেতর জীবন-যাপন করতে থাকেন। অবশেষে ২৫ সেপ্টেম্বর বিষয়টি বিুভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশে নজরে আসে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরার তিনি দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন এবং ওই দিনই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
সদর হাসপাতালের আরএমও মশিউর রহমান বাবু বলেছেন, তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভূগছেন। তার সুস্থতার জন্য হাসপাতালে আরও দু’তিন দিন থাকতে হবে বলে জানান।
হাসপাতালের বিছানায় শায়িত বৃদ্ধা মায়া রাণী কুন্ডু বলেছেন, এখনও যে ভালো মানুষ আছে তা বুঝতে পারলাম। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন যেন একটু সুস্থ ও শান্তিতে থাকতে পারি, তিনি সন্তানদের কাছে সেই আশা করেন।
এ ব্যাপারে মায়া রাণীর ছেলে নড়াইল শহরের ছোট ব্যবসায়ী দেব কুন্ডু বলেছেন, হাসপাতাল থেকে মাকে সরাসরি বাড়িতে নিয়ে যাব। তিনি তার কৃত কর্মের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, এ বিষয়টি জানার পরপরই তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজাও বৃদ্ধার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। বৃদ্ধার বড় সন্তান দেব কুন্ডু তার মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। সন্তান ঠিকমতো তার মাকে দেখভাল করছে কিনা আমরা খোঁজ-খবর রাখব। এরপর পূনরায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তার বিরেিদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please follow and like us: