নিরাপদ সড়ক চাই সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সাতক্ষীরা জেলা শাখার পলাশপোলস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলহাজ্ব মুহাঃ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নজরুল ইসলাম। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দৃষ্টিপাতের সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিরাপদ সড়ক চাই সাতক্ষীরা জেলা শাখার উপদেষ্টা জি এম নূর ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই সাতক্ষীরা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড আব্দুল মজিদ, সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবুল কালাম , বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উপদেষ্টা নিরাপদ সড়ক চাই সাতক্ষীরা জেলা শাখার আলহাজ্ব ডাঃ আবুল কালাম বাবলা। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত হতে পারি। সাতক্ষীরা শহরে বাইপাস হলেও ট্রাক চালকরা বাইপাস দিয়ে না যেয়ে শহরের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করে যাতে করে দূর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন সড়কে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন মারা যায়। এটি চলমান। সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সরকার, চালক,জনগন সবার সচেতনতা দরকার। তিনি আরোও বলেন, দূর্ঘটনা রোধে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবেও শিখতে হবে। এটির উত্তরন ঘটাতে পারলে সেটি হবে অনেক বড় কাজ।’
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা কোন বয়স মানে না, কোন ধর্ম মানে না কোন কিছু মানে না। সে রাজা মানে না, প্রজা মানে না , ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, রাজনীতিবিদ,জনসাধারণ কাউকে সে মানে না। মুহূর্তের অসর্তকতায় ঘটে যায় দূর্ঘটনা নিভে যায় জীবন প্রদীপ। থমকে যায় একটি পরিবার।আজ থেকে ২৭ বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২২অক্টোবর এ রকম একটি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন,মানুষকে, সমাজকে সচেতন করবেন। ১৯৯৩ সালের ১ লা ডিসেম্বর এফডিসি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত লক্ষ মানুষের পদচারনায় নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। বিআরটিএ’ এর সর্বশেষ তথ্য মতে, দেশে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৪৫ লক্ষ ২৩ হাজার ৬শত । অনিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা দিয়ে মোট গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষের অধিক । এর বিপরীতে ২১ লক্ষ চালকের লাইসেন্স আছে এবং ২৪ লক্ষ চালকের সঙ্কট আছে কিন্তু গাড়ি থেমে নেই। তাহলে আমাদের জীবন কতটা নিরাপদ ? বিআরটিএ’র সর্বশেষ তথ্যমতে বাংলাদেশে ভারী গাড়ির সংখ্যা ৩ লক্ষ ২০ হাজার এর বিপরীে ত লক্ষাধিক কারো কারো মতো পৌনে ২লাখ ভারী গাড়ি চালনায় অভিজ্ঞ চালকের অভাব আছে। কিন্তু গাড়ি তো থেমে নেই, তাহলে তাদের হাতে আমরা কতটা নিরাপদ? আর বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ ৩২ হাজার মোটর সাইকেল এর লাইসেন্স আছে। বিআরটিএ’র মতে, ১৪ লক্ষ চালকের লাইসেন্স আছে তাহলে ১৬ লক্ষ চালকের লাইসেন্স নাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন দৈনিক দৃষ্টিপাতের সম্পাদক ও প্রকাশক জি এম নূর ইসলাম বলেন, আমাদের সর্বাঙ্গে ঘা। আমরা কেউ সচেতন না। প্রতিদিন যে হারে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটে সে হারে যদি পত্রিকায় নিউজ করা হয় তাহলে পত্রিকায় অন্য নিউজ করার জায়গা থাকেনা । আমাদের সকলকে সচেতন ও মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। আমাদের রাস্তার কোন পরিকল্পনা নেই,আমাদের ১ কিলোমিটার রাস্তাও জাতীয় সড়ক নেই। তিনি আরো বলেন সড়ক দূর্ঘটনা রোধে আমাদের সকল ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নিরাপদ সড়ক চাই সাতক্ষীরা জেলা শাখার উপদেষ্টা এ্যাড আব্দুল মজিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাবি আমাদের মাঝে দীর্ঘদিন বিরাজমান ছিল। শুধু আমি ভালো চালক এই দাবি নিয়ে রাস্তায় নামলে চলবে না। তিনি আরো বলেন বেশির ভাগ গাড়ির লাইসেন্স নেই।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন নিসচা’ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এস এম মহিদার রহমান, সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবুল কালাম, মোহাম্মাদ আলী সুজন, মতিয়ার রহমান মধু । নিসচা’র এস এম মহিদার রহমানের পরিচালনায় সমগ্রঅনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ আবিদুল হক মুন্না। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া পরিচালনা করেন নিসচা সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি মুহাঃ দিদারুল ইসলাম।

Please follow and like us: