সাতক্ষীরা মেডিকেলে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে পিসিআর ল্যাব’র সরঞ্জাম

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের যন্ত্রপাতি দুই মাসেরও বেশি সময় ফেলে রাখা হয়েছে।
গত মার্চ মাসে থেকে সারাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সাতক্ষীরা মেডিকেলে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবী জানিয়ে আসছিল, সমাজ উন্নয়ন সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এরই ভিত্তিতে স্থানীয় রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এব্যাপারে তৎপর হন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল তথা সাতক্ষীরাবাসির জন্য একটি পিসিআর ল্যাব হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বহু আন্দোলন সংগ্রাম’র পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা এবং মানিকগঞ্জ জেলার জন্য দুটি পিসিআর ল্যাব হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য বিভাগ। মানিকগঞ্জ জেলায় সেটি একমাসের মধ্যে চালু করে নিয়মিত করোনাভাইরাস পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু সাতক্ষীরা মেডিকেলের কর্মকর্তারা গত দুইমাসেও পিসিআর ল্যাবটি স্থাপন করতে পারেনি। চলতি শীত মৌসুমে আদৌ এই পিসিআর ল্যাব চালু হবে কী না তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপিকা মির্জা সাবরিনা ফ্লোরা গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি এখনও পর্যন্ত সাতক্ষীরায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং মন্তব্য করে বলেন সাতক্ষীরা জেলা যদি পিসিআর ল্যাব বসাতে না পারে তবে সেটি অন্য জেলায় বরাদ্দ দেওয়া ভাল।
অধ্যাপিকা মির্জা সাবরিনা ফ্লোরার এই আলাপচারিতা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সূত্র প্রকাশ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সাতক্ষীরা মেডিকেলের তত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, করোনার শুরুতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এখানে ১২শ করোনা রোগির চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে পজেটিভ ১৬ জনের মৃত্যু হয় এবং করোনা সন্দেহে শতাধিক মৃত্যুু হয়। বর্তমানে কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নেই বলে তিনি জানান।
এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেলের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আসন্ন শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসতে পারে। সেই বিবেচনায় সারাদেশের বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ১৪টি মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাব বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা আইইডিসিআর থেকে সেটি সংগ্রহ করেছি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের ৪টি রুমও বরাদ্দ করা হয়েছে। সেটি স্থাপন করার জন্য সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর কাজ শেষ করলে আমরা পরীক্ষার কাজ শুরু করতে পারবো বলে তিনি জানান।
এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরা সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ আলী জানান, পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেটা ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর হয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তরের হেড অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হবে। তারপর মুল্যায়নসহ আরো কিছু প্রক্রিয়া শেষে এখানে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়তো একমাস সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন এভাবে, সাতক্ষীরা জেলার ২৩ লাখ মানুষের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। একই দিনে মানিকগঞ্জ জেলায় বরাদ্দকৃত পিসিআর ল্যাব গ্রহণ করে তারা একমাসের মধ্যে সেটি স্থাপন করেছে এবং প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার কাজ করছে। এত দিনে ল্যাব স্থাপন না হওয়ায় সাতক্ষীরাবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানকার কর্তৃপক্ষ এই শীতেও সেটি স্থাপন করতে পারবে কী না সন্দেহ বিরাজ করছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি এবং সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুণের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

Please follow and like us: