অসুস্থ সন্তানের বোঝা এড়াতে সাতক্ষীরায় নবজাতকে হত্যা করে তারই বাবা-মা, সংবাদ সম্মেলনে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার

অসুস্থ (প্রতিবন্ধী) শিশু সন্তানের বোঝা এড়ানোর জন্য ১৫ দিনের নবজাতককে হত্যা করে সাতক্ষীরার হাওয়ালখালী গ্রামের পাষÐ বাবা-মা। এদিকে, কলারোয়ার মাদ্রাসা সুপারকে ফাঁসানোর জন্য বৃদ্ধ শশুরকে গলাকেটে হত্যা করেছে জামাতা। পৃথক এই দুটি হত্যা কান্ডের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে দাবী করে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দুটি হত্যা কান্ডের বিস্তারিত বিবরন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সময় জানান, সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের সোহাগ হোসেন ও ফতেমা দম্পতি গত ১১ নভেম্বর একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। শিশুটির নাম রাখা হয় সোহান হোসেন। চিকিৎসকরা নবজাতকের পিতা মাতাকে জানিয়ে দেয় সন্তানটি শারিরিক অসুস্থতা নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছে। এরপর গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে মায়ের পাশ থেকে শিশুটি চুরি হয়ে গেছে বলে তারা প্রচার দেয়। এ ঘটনায় সদর থানায় তারা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তিনি জানান, শিশুটির জন্মগত ত্রæটির কারনে মানুসিক যন্ত্রনা থেকে এই অসুস্থ শিশুটির বোঝা এড়াতে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। স্বামী সোহাগ হোসেনের ইন্ধনে ও স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের সম্মতিতে ওই দিনই সোহাগ শিশুটিকে তাদের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকিতে ফেলে হত্যা করে। তিনি আরো জানান, শিশুটির পিতা-মাতার আচরনে পুলিশের সন্দেহ হলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে শিশুটিকে তারা হত্যা করেছে। তিনি আরো জানান, দেশব্যাপী এটি একটি আলোচিত ঘটনা। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ মামলায় নিহত নবজাতকের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিশুটির বাবা-মাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অপর দিকে, কলারোয়া উপজেলার দিয়াড়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক মোসলেম আলি বিশ্বাসকে গত ২৫ নভেম্বর রাতে গলাকেটে হত্যা করে তারই জামাতা একই গ্রামের সাময়িক চাকরিচ্যুত মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা সুপারকে এই হত্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য এঘটনা ঘটানো হয়। আবুল কালাম আজাদ ও তার ভাতিজা হাবিব ইসলাম পরিকল্পিতভাবে মোসলেম আলি বিশ্বাসকে হত্যা করে। পুলিশ সুপার আরো জানান তারা এ হত্যা কান্ডের দায় স্বিকার করেছে।

Please follow and like us: