সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার-১

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফুলতলা গ্রামে বসতবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ ৭ জনকে আহত করার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার রাতে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম মোঃ ইউসুফ গাজী (২০)। সে শ্যামনগর উপাজেলার বংশীপুর গ্রামের মনু গাজীর ছেলে।
এর আগে সন্ধ্যায় ফুলতলা গ্রামের গোবিন্দ বাউলিয়া বাদি হয়ে ইউপি সদস্য আকবর আলীকে প্রধান আসামী করে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৫।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একই উপজেলার কদমতলা গ্রামের একাদশ শ্রেণীর বখাটে কলেজ ছাত্র পল্লব মন্ডল তার সহপাঠী এক ছাত্রীকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফুলতলা গ্রামে রাস মন্দিরের পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় উত্যক্ত করছিল। এ সময় মিলনসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক এর প্রতিবাদ করে। সেখান থেকে ফিরে যেয়ে ক্ষুব্ধ পল্লব রাত ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলীসহ মুনসুর সরদারের গ্যারেজ ও ঈশ্বরীপুর এলাকার সন্ত্রাসী আলীম গাজী, আলীম মোড়ল, রবিউল, কুদ্দুস, ইউছুফ গাজী, আলম গাজী, আয়জুল, খোকন, মিলনসহ ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন করে ফুলতলা গ্রামের বাউলিয়া পরিবারের ৩টি বাড়িতে হামলা চালায় এবং দুটি প্রতিমা ভাংচুর করে। এ সময় তারা মোটর সাইকেল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে ওই কিশোরী কলেজছাত্রীকে অপহরণ করার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। এতে বাঁধা দিলে পিটিয়ে জখম করা হয় নগেন্দ্র বাউলিয়া (৬০), সুভাষ বাউলিয়া (৪২), গোবিন্দ বাউলিয়া (৪০), যতীন বাউলিয়া (৩৮), মিলন বাউলিয়া (২০), নিত্যানন্দ (১৮), মমতা বাউলিয়া (২৫) ও তপন বাউলিয়া (৪৮)সহ ৭ জনকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই রাতেই তাদেরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, এর প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার বেলা ১১টায় ফুলতলা মোড়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বর্বোরচিত এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে তারা গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় গোবিন্দ বাউলিয়া বাদি হয়ে ইউপি সদস্য আকবর আলীকে প্রধান করে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪০/৫০জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে এ মামলার আসামী ইউসুফ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here