সাতক্ষীরায় সকল লাইব্রেরি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষন

সাতক্ষীরায় সকল লাইব্রেরি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় অবৈধ গাইড ও নোট বই বিরোধী অভিযানের পর জেলা পুস্তক সমিতি অনির্দিষ্ট কালের জন্য বইয়ের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। ২৬ জুলাই জেলা পুস্তক সমিতির জরুরী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে জেলার সকল বইয়ের দোকান বন্ধ ঘোসণা করা হয়েছে। ফলে জেলার কোন বইয়ের দোকান খোলা পাওয়া যায় নি। জেলা প্রশাসনের অবৈধ গাইড ও নোট বই বিরোধী অভিযানের পর প্রশাসনকে চাপে রাখতে ও অবৈধ গাইড ও নোট বই বিক্রির দাবীতে দোকান বন্ধ করা হয়েছে। ফলে বই কিনতে আসা শিক্ষার্থী-অবিভাবকরা পড়েছে বিপাকে। অন্যদিকে, প্রশাসনের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে অবিভাবকরা জানান, শিক্ষকরা বাধ্য করেন তাদের নিম্ম মানের বই কিনতে। তারা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানে ও শিক্ষক নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। অন্যদিকে, কদমতলার ন্যাশনাল বুক ডিপো বই খোলা রাখায় তাকে সমিতি থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের মে মাসের জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসনের নির্দেশ জেলা শিক্ষা অফিসের জেশিঅ/২০১৮/৬৪০৪ নং স্মারক মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করে রচিত নিম্ন মানের গাইড বই (বিশেষ করে পাঞ্জেরী, অক্ষরপত্র, স্কয়ার, অক্সফোর্ড প্রকাশনীর) বই বাজারজাত না করে শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু জেলা শিক্ষা অফিস সেটা বাস্তবায়ন করেন নি। সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের সভায়ও একই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির কতিপয় নেতা শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই কিনতে বাধ্য করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আশাশুনি, কালিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির কতিপয় নেতা প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিশেষ একটি পাবলিকেশনের সাথে চুক্তি বদ্ধ হয়েছেন। তারা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র নোট-গাইড থেকে আসবে বলে শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করবে বলে কোম্পানীকে আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে জেশিঅ/সাত/২০১৮/৬৮১৯ স্বারক মোতাবেক এনসিটিবি কর্তৃক অনুমোদনবিহীন নোট/গাইড বই মজুদ, বিক্রি বা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত না করতে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে এই সংক্রান্ত বই যাতে শিক্ষকরা সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত না করতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। দায়সারা ভাবে শিক্ষা অফিসের কতিপয় নিম্ম পদস্থ কর্মচারী সমিতির নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র আরো জানায়, ২৫ জানুয়ারি সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস, কলেজ মোড় ও শহীদ নাজমুল সরণিস্থ বইয়ের দোকানগুলোতে অবৈধ নোট ও গাইড বইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বেশ কিছু অবৈধ নোট ও গাইড বই জব্দ করা হয়। দুপুরে জেলা কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহার আলী এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাহার আলী জানান, বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোস্তফা কামাল মহোদয়ের নির্দেশে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকানে অবৈধ নোটবইয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় দোকানগুলোতে প্রাপ্ত অবৈধ নোট বই জব্দ ও পরবর্তীতে কেউ যেন এ ধরনের নোট বই বিক্রি না করে সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা জেলায় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। নোট বই বা গাইড বই মুখস্থ করার সংস্কৃতি প্রতিভাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। পরিণামে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে। এই অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ লাভের এখনই উপযুক্ত সময়।
আর জেলা প্রশাসনের অভিযানের পরেই ২৬ জানুয়ারি জেলা পুস্তক সমিতি সভা করে জেলার সকল বইয়ের দোকান বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনকে চাপে রাখতে বইয়ের দোকান বন্ধ করলেও সূত্র জানায়, পপুলার লাইব্রেরী, বই মেলা, পপি লাইব্রেরীসহ কয়েকটি দোকান বাড়ি থেকে বিভিন্ন স্থানে বই সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, পুস্তক সমিতির সভাপতি আহবায়ক সাইফুল ইসলাম বাবু, যুগ্ম আহবায়ক আবু ছালেক, কাইয়ুম সরকার স্বাক্ষরিত সংগঠনের জরুরী নোটিশে কোন লাইব্রেরী দোকান খুলে ক্রয় ও বিক্রয় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। সূত্র আরো জানায়, সমিতিকে নিম্ন মানের কয়েকটি প্রকাশনী ইন্ধন যোগাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য সন্ধ্যায় সমিতির অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

Please follow and like us: