সাতক্ষীরার বারোপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সাতক্ষীরার বারোপোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বারো পোতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীনের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রথম দফায় এ তদন্ত করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকার। তবে, প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেছেন।
উল্লেখ্য ঃ গত ২৪শে ফেব্রুয়ারী “বারো পোতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনের আয়োজন না করেও ফলাফল শিট তৈরী করলেন প্রধান শিক্ষিকা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত খবরে প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীনের বিরুদ্ধে খাতায় নৈমেত্তিক ছুটি কার্যকর না হওয়া সত্তে¡ও বিদ্যালয়ে না যাওয়া, ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে হাজির হওয়া, এমএমসি কমিটি অভিভাবকসহ সহকারী শিক্ষকদের সাথে অসাদাচারণ, জাতীয় প্রোগ্রামগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত, ভূয়া ভাউচার তৈরী করে টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ করার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা সম্পর্কিত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় পত্র পত্রিকায়। সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় তদন্ত শুরু করে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র সরকার। এসময় তিনি বিদ্যালয়টির এম,এম,সি কমিটির সদস্য, অভিভাবক, স্থানীয়গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত আকারে অভিযোগ গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে শিবপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এম,এম,সি কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ-সম্পাদক ওবায়দুর রহমান (মানি) বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় প্রোগ্রামগুলোর আগে ছুটি নেন। তিনি ঠিক মতো স্কুলে আসেন না। একারনে আমরা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছিলাম। তিনি আরো বলেন, লিখিত আকারে আমাদের অভিযোগ গুলো শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দিয়েছি।
তবে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজহ পারভীন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, আমি ওই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে কারো কোন অবৈধ সুযোগ সুবিধা না দেয়ায় এবং সঠিক নিয়ম কানুন অনুযায়ী চালানোর কারনে কিছু সহকারী শিক্ষকসহ একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার দুলাল চন্দ্র জানান, স্থানীয় গণ্যমান্যব্যক্তি, অভিভাবকসহ শিক্ষকদের সকল সমস্যা ও অভিযোগ গুলো লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টটি উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হবে এবং অত্র বিদ্যালয়ে শিক্ষার সু-পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us: