আদালতে ভার্চুয়াল শুনানী সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত , সুফল পাচ্ছে সাতক্ষীরারবাসী

শহিদুল ইসলাম শহিদ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ আদালতে ভার্চুয়াল শুনানী সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ আর এ পদক্ষেপের কারণেই সাতক্ষীরার শত শত হাজতী’র কাছে আজ আশার আলো হিসাবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে যখন সকল আদালত বন্ধ তখন সরকারের এই একটি পদ্ধতিই বিচার প্রার্থী মানুষকে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। ভার্চুয়াল শুনানীর মাধ্যমেই সাতক্ষীরায় গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৫২৮ জন আসামীর জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। এ সময় বিভিন্ন আদালতে ৮৪২টি মামলার শুনানী গ্রহন করা হয়।
সারাদেশে গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল শুনানী অনুষ্ঠিত হলে ও ভুল বুঝাবুঝির কারণে সাতক্ষীরার আইনজীবীগণ ভার্চুয়াল শুনানীতে অপারগতা প্রকাশ করে। অবশেষে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের ঐকান্তিক চেষ্টায় সাতক্ষীরায় গত ১৭ মে হতে আদালতের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। ফলে করোনা পরিস্থিতির চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকা আসামী ও তাদের পরিবারের লোকজন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে। একের পর এক মামলায় জামিন পেতে থাকে আসামীরা। জেলা কারাগারে থাকা আসামীর সংখ্যা কমতে শুরু করে।এমনিভাবে গত ২৯টি কার্যদিবসে জামিনপ্রাপ্ত হয় ৫২৮ জন আসামী। ভার্চুয়াল আদালত চলাকালীন আইনজীবীগন ৩৯১টি মামলায় আবেদন করেন এর মধ্যে ১৯৪টি মামলায় ২৩৮ জন আসামীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
অপরদিকে বেশ কিছুদিন যাবৎ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারক পোস্টিং না থাকার কারনে ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান গত ১৭ মে হতে ২৮ মে পর্যন্ত ৭টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহন করেন। পরবর্তীতে গত ৩১ মে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে এস, এম নূরুল ইসলাম বিচারক হিসেবে যোগদানের পর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি ১০টি মামলায় ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহন করেন। এছাড়া সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ প্রথম ও দ্বিতীয় আদালত সহ সকল সহকারী জজ আদালতেও বেশ কিছু মামলায় ভার্চুয়াল শুনানী গ্রহন করেন বিচারকগন।
অপরদিকে সাতক্ষীরার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন জেলার সর্বোচ্চ সরকারী ভবন হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পেলেও এখনকার সর্বোচ্চ পদে অর্থাৎ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সকল সহকর্মীদের নিয়ে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিনি হচ্ছেন, মোঃ হুমায়ুন কবীর। এছাড়াও রয়েছেন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজওয়ানুজ্জামান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার রায়, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডল, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহার, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মোবারক মুনিম। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনের ঝুকি নিয়ে সাতক্ষীরার বিচারাঙ্গনে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে ভার্চুয়াল শুনানী করে চলেছেন সকলেই।
সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সহ অধীনস্থ সকল আদালতে গত ২৯ কার্যদিবসে আইনজীবীগন ৪৯৭ টি মামলায় আবেদন করলেও ৪৭৫ টি মামলায় শুনানী গ্রহন করেন আদালত। এর মধ্যে ২০৫ টি মামলায় ২৯০ জন আসামী জামিন প্রাপ্ত হন। এছাড়া সকল আদালতে রিমান্ড ও জিম্মার আবেদন সহ বিভিন্ন মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহন, ভিকটিমের ২২ ধারায় জবাবন্দি গ্রহন, মেডিকেল সনদ তলব সহ চেকের মামলায় ফাইলিং গ্রহন করা হয়। এককথায় সাতক্ষীরার মানুষের কাছে ভার্চুয়াল আদালত এখন সরকারের যুগোপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

Please follow and like us: