গৌরীপুরে রাস্তার দু’ধারে পুকুরের সারি : খানাখন্দে ভরা রাস্তায় জনদুর্ভোগ চরমে

গৌরীপুরে রাস্তার দু’ধারে পুকুরের সারি : খানাখন্দে ভরা রাস্তায় জনদুর্ভোগ চরমে

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সৃষ্ট গর্তে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের চাকা আটকে পড়ায় যানবাহন চালক ও পথচারীরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ১৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ভোর পাঁচটায় সড়কের মইলাকান্দা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে দুপুর পর্যন্ত ট্রাকের চাকা উদ্ধার হয়নি। ট্রাকটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে নেত্রকোনা যাচ্ছিল।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মইলাকান্দা এলাকায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাওয়া সড়কের গর্তে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের চাকা আটকে আছে। গাড়ির চালক ও হেলপার তাদের লোকজন নিয়ে চাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে ট্রাকের চাকা আটকে পড়ায় সড়কের একপাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক রিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে সকাল থেকে সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়েছে তেলবাহি লড়ি, ট্রাক, পিকআপসহ বড় যানবাহনগুলো। এতে করে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গ্যস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের হেলপার মামুন বলেন, ভোর পাঁচটায় ট্রাকের চাকা সড়কের গর্তে আটকে পড়ছে। দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করেও তুলতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি দ্রুত চাকা উদ্ধার করার জন্য। পিকআপ ভ্যানের চালক সুমন মিয়া বলেন, ত্রিশাল থেকে গাড়িবোঝাই করে বাদাম নিয়ে শ্যামগঞ্জ যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে ট্রাকের চাকা আটকে পড়ায় তিন ঘণ্টা ধরে গাড়ি নিয়ে বসে আছি। আটকে পড়া ট্রাক সড়ক থেকে না সরানো পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

এদিকে গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং, ইটখলা বাজার, ধানমহাল, ইটখলা বাজার, মেসিডেঙ্গি, কাউরাট এলাকায় সড়কের পিচ উঠে খানাখন্দসহ ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, অটোরিকশা, হ্যান্ডট্রলি, পাওয়ার ট্রিলারসহ অন্যান্য যানবাহন। সড়কের এই বেহালদশার কারণে প্রায়ই গাড়ির চাকা আটকে পড়াসহ দুর্ঘটনা ঘটছে। কাউরাট এলাকার মো. কাশেম বলেন, মইলাকান্দা এলাকায় রাস্তার দু’ধারে পুকুরের সারি, পানি নিষ্কাশনের অভাব, সঠিক সংস্কারের অভাবে আঞ্চলিক সড়কটির শ্যামগঞ্জ থেকে কাউরাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এমনিতেই বেহাল। এছাড়াও বালুবাহী, পাথরবাহী ভারী যান ও বাস চলাচলের কারণে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রতি বছর সড়ক সংষ্কার করা হলেও রাস্তাটি মজবুত ও প্রশস্ততা করার দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মোঃ ওয়াহেদুল হক বলেন, সড়কটি মজবুতভাবে সংস্কার ও প্রস্থতা করে নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আর ট্রাকের চাকা আটকে পড়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply