কেন্দুয়া সোনালী ব্যাংক শাখায় চেক জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।

কেন্দুয়া সোনালী ব্যাংক শাখায় চেক জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। দিলীপ কুমার দাস ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি।

-সোনালী ব্যাংক কেন্দুয়া শাখায়  চেক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হয়ে গেছে। ব্যাংকের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এক নারীর হিসাব থেকে স্বাক্ষর জাল করে নির্বিঘ্নে ৭ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায় অন্য এক নারী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটে রোব বার দুপুরে। পরে শাখা ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে রাত ১১টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে ঘটনাটি ধামাচাপার চেষ্টা করা হয়।

কেন্দুয়া পৌর এলাকার বাদে আঠারোবাড়ি মহল্লার পূর্ণতা নামে এক নারী গত ৬ মাস ধরে ব্যাংকে এসে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পেনসন ভোগী সহ অন্যান্য সহজ সরল গ্রাহকদের সঙ্গে মিশে তাদের হিসাব থেকে চেক লিখে দিয়ে টাকা তুলে দেন। অনেক সময় গ্রাহকের চেক বই থেকে স্বাক্ষর করা চেকের পাতা ছেড়ার সময় প্রতারনার আশ্রয়ে কৌশলে দুটি পাতা ছিড়ে নেন ওই নারী। পরে ওই চেক দিয়ে স্বাক্ষর জাল করে সুযোগমত টাকা উঠিয়ে নেয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।

দুই সপ্তাহ আগে ছিলিমপুর গ্রামের অর্ধশিক্ষিত এক নারীকে নিয়ে সোনালী ব্যাংক কেন্দুয়া শাখায় দুজনে একসঙ্গে হিসাব খুলেন। সেদিন কৌশলে ছিলিমপুর গ্রামের ওই নারীর চেক বইয়ের পাতা থেকে একটি পাতা ছিড়ে রেখে দিয়ে গত রোববার দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ৭ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়। টাকা উঠানোর পর ছিলিমপুর গ্রামের মূল গ্রাহকের মোবাইলে টাকা উঠানোর বার্তা পৌঁছলে তিনি দৌড়ে ব্যাংকে ছুটে আসলে বিষয়টি ফাঁস হয়। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে ওঠেন

রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ রুদ্ধদ্বার বৈঠক। শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ আহম্মদের সঙ্গে রোববার রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার পর গণমাধ্যমকে জানানো হবে। সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে জানতে গেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি ব্যাংকের অভ্যন্তরিন তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছিনা। তবে তিনি আশ্বস্থ করে বলেন, জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে তুলে নেয়া ৭ লাখ টাকা উদ্ধার করে মূল গ্রাহককে ফিরিয়ে দিয়ে তা মিটমাট করে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply