২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে বইছে ইউনিয়ন নির্বাচনী হাওয়া

২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে বইছে ইউনিয়ন নির্বাচনী হাওয়া

-মো. জহিরুল হুদা লিটন : গৌরীপুর, ময়মনসিংহ :

সময় ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), সব উপ-নির্বাচনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন ঘিরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকানে-দোকানে বইছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে বিশ্লেষণ। নড়েচড়ে উঠেছে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অনেকেই আগাম প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও চা-চক্রে নিজেদের জানান দিচ্ছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমানতালে চলছে প্রচার-প্রচারণা। শুধু মাঠেই নয়, দলীয় সমর্থন পেতে একই ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর পক্ষ থেকে চলছে নানারকম তদবির, রাজনৈতিক কার্যালয় হয়ে উঠেছে সরগরম। দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে ওই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাব-এর সভাপতির নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন প্রতিবেদক ও সদস্যবৃন্দ নিয়ে ৪/৫টি দল গঠন করে গৌরীপুর উপজেলার আসন্ন ১০টি ইউনয়নের নির্বাচন ঘিরে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আসন্ন নির্বাচনেরও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তাঁর পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতিমধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মো. তোফাজ্জল হোসেন সায়মন, , উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রানা এবং বিএনপির নেতা এম, এ সাত্তার আগাম প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,  এই ইউনিয়নের বড় বড় যেসব উন্নয়ন চোখে পড়বে, স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সব উন্নয়ন তিনিই করেছেন বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইতে জনগণ তাকে চাপ প্রয়োগ করছেন। তাই তিনি দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি আশাবাদী ২নং গৌরীপুরকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করতে দল তাকে এবার মূল্যায়ন করবেন।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. হযরত আলী বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়নের উন্নয়ন ও দল পরিচালনায় অনেকটা ব্যর্থ। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ও জনগন তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে সমর্থন দিচ্ছেন। নেতাকর্মী ও জনগণের স্বার্থে তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পেলে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধতায় জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী।

পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, দলের দুঃসময়ে একজন কর্মী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সব সময় কাজ করে আসছি। এই ইউনিয়নের সকল প্রকার সমস্যা নিরসনে তিনি জনগণের পাশে থাকতে চান। যদি তাকে দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তবে তিনি জনগণের পাশে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। জনগণের সমর্থন নিয়ে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আওয়ামী লীগ নেতা মো. তোফাজ্জল হোসেন সায়মন বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন। এবার আসন্ন নির্বাচনে দলের কাছে দলীয় মনোনয়ন দাবি করছেন এ নেতা। একজন সমাজ কর্মী হিসেবে দল তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আশা করছেন সায়মন।

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান রানা বলেন, তৃণমূল আমার সাথে আছে, দল মনোনয়ন দিলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।

এদিকে, বিএনপির সমর্থন পক্ষ থেকে এম, এ সাত্তারের নাম শোনা যাচ্ছে। বিএনপির নেতা এম, এ সাত্তার বলেন, জনগণের সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন এবং এই নির্বাচনে তাকে ভোটের মাঠে থাকার সুযোগ দিলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে দাবি করেন।

তবে ইউনিয়ন ঘুরে পাওয়া জনগনের ভাষ্য হলো-  তারা চান সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন। নির্বাচনে প্রার্থী যেই হোক ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন- এমন প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারদের।

Leave a Reply