বগুড়ায় অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ নব্য-জেএমবির ৪ জন গ্রেফতার

বগুড়ায় পুলিশ সদস্যরা আবারো সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবির চারজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার ভোররাতে ওই চার জঙ্গি নাশকতার পরিকল্পনা করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারায় বৈঠক করার প্রস্তুতিকালেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, দেশী বন্দুক, ধারালো অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো নব্য জেএমবির আইটি শাখার সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার তরশ্রীরামপুর গ্রামের তানভীর আহম্মেদ ওরফে আবু ইব্রাহিম (২৫), মিডিয়া শাখার প্রধান ও টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার জগতপোড়া গ্রামের জাকারিয়া জামিল (৩১), সক্রিয় সদস্য ময়মনসিংহ সদরের চকশ্যামরামপুর গ্রামের আতিকুর রহমান (২৮) এবং একই গ্রামের আবু সাঈদ (৩২)। তাঁদের মধ্যে তানভীর আহম্মেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আতিকুর রহমান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও জামিল একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।


শনিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আব্দুল বাতেন বিপিএম পিপিএম জানান, পুলিশের অব্যহত অভিযানের ফলে নব্য জেএমবি দেশে অনেকটাই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নতুন করে কোথাও তারা হামলা করার সুযোগ পাচ্ছে না। দীর্ঘদিন অনলাইনে যোগাযোগ করে আসছিল তাই সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে তারা নিজেরা সরাসরি মিলিত হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তানভীর ও জামিল কে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালালে সেখানে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে কোনভাবেই আর জঙ্গিবাদ বা কোন ধরণের অপরাধের তৎপরতা এই অঞ্চলে মাথা চাঁড়া দিবেনা মর্মেও আত্মবিশ^াসের সাথে সকল অপরাধীদের কঠোর হুশিয়ারি দেন ডিআইজি বাতেন। তিনি বলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আগের যেকোন সময়ের থেকে অনেক শক্তিশালি তাই জিরো টলারেন্সভাবে সাধারণ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে তারা সর্বদা সজাগ রয়েছেন। ব্রিফিংয়ে ডিআইজি বাতেন আরো জানান, আটক ৪ জনের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ নব্য জেএমবির তথ্য প্রযুক্তি শাখার প্রধান যে ২০১৭ সালে এর সাথে যুক্ত হয়েছে এবং জাকারিয়া জামিল সংগঠনের মিডিয়া শাখার প্রধান। বাকি দুজনের একজন আবু সাঈদ সংগঠনের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আর অপরজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জেএমবির অর্থ সংগ্রহের কাজ করে থাকে। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) এর ব্যবস্থাপনায় ব্রিফিং এ জেলা পুলিশের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যথাক্রমে আলী হায়দার চৌধুরী (প্রশাসন), আব্দুর রশিদ (অপরাধ), সনাতন চক্রবর্তী (সদর সার্কেল), সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির, জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এই অভিযান প্রসঙ্গে আরো জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা আশুলিয়ায় জঙ্গি হামলায় যুক্ত জেএমবি সদস্য তানভীর আহম্মেদ ও জাকারিয়া জামিলকে পুলিশ খুঁজছিলো দীর্ঘদিন ধরেই। তারা দুজন নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একত্রিত হচ্ছে এমন খবরে শনিবার ভোররাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায় শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিহারা এলাকায়। সেখান থেকে তানভীর ও জামিল ছাড়াও আরো দুজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশী পিস্তল, কার্তুজসহ দেশী ওয়ান শুটার গান, ৪টি ধারালো অস্ত্র এবং তার-ব্যাটারি-টেপসহ বোমা তৈরির এক কেজি বিস্ফোরকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছে, এই অবস্থায় নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দেয়ার জন্য কোথাও হামলার পরিকল্পনা করার উদ্দেশ্যে তারা বগুড়ায় সমবেত হয়েছিলো। তবে বৈঠক শুরুর আগেই বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করে ফেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক জানান, এঘটনায় জেলার শিবগঞ্জ থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৩টি পৃথক মামলা দায়েরর পর দুপুরে আটক ৪ জেএমবি সদস্যকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে এবং রবিবার রিমান্ড শুনানীর তারিখ ধার্য্য হয়েছে মর্মে জানান তিনি।

Please follow and like us: