বগুড়ায় আন্ত:জেলা কাভার্ড ভ্যান ডাকাতদলের ৬ সদস্য গ্রেফতার

সঞ্জু রায়, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে ইফাদ গ্রæপের প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার মালামালসহ আন্তঃজেলা কাভার্ড ভ্যান ডাকাত দলের মূলহোতা সহ ৬ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের মাঝে ২ জন বগুড়ার হলেও বাকি ৪ জন পৃথক ৪ জেলার বাসিন্দা। অভিযানে উদ্ধার করা হয় লুন্ঠিত মালামাল সহ ডাকাতি হওয়া কাভার্ড ভ্যানটি।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয় থেকে প্রদানকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ডাকাতদলের সদস্যদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় যারা দীর্ঘদিন ধরেই মহাসড়কে বিভিন্ন কাভার্ড ও যানবাহনে ডাকাতি করলেও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাহিরে ছিলেন তবে অবশেষে বগুড়া ডিবির জালে গ্রেফতার হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দী থানার মৃত মুতরাজ আলী খানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মৃত সানাউল্লাহ’র ছেলে সোলাইমান মিয়া(৪২), মাগুড়ার শালিখা মধুখালি এলাকার খাদেম আহম্মেদ বিশ্বাস এর ছেলে শামিম আহম্মেদ (৩৮), বগুড়া শিবগঞ্জ এলাকার উত্তর শ্যামপুর এলাকার জহুরুল ইসলাম এর ছেলে ইয়াছিন আলী(২৭), বরগুনা সদরের মৃত: ওয়াজেত আলীর ছেলে ড্রাইভার দুলাল মিয়া (৪০) এবং নরসিংদী জেলার চন্দনপুর থানার হারিসাংগান এলাকার মাসুদুর রহমান খান এর ছেলে রাসেল খান সুজন (৪০)।
আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পরবর্তী পুলিশ জানায়, এই চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলমের বোন জামাই হচ্ছেন ডাকাত সদস্য সোলাইমান মিয়া এবং ইয়াছিন আলী তার ভাগ্নি জামাই। গত ৪/৫ বছর পূর্বে কাভার্ড ভ্যান চালক দুলালের সহিত তার ঢাকা টঙ্গি রেলস্টেশন এলাকায় পরিচয় হয় এবং পাশাপাশি বসবাস করাকালে সে ভিআইপি ২৭ নামক গাড়ীর ড্রাইভার ছিল। সে সময় হতে তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দল গঠন করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এলাকা হতে কাভার্ড ভ্যান সহ বিভিন্ন গাড়ী ডাকাতি করে লুট করা মালামাল বগুড়ায় আনে এবং উত্তরবঙ্গ হতে কাভার্ড ভ্যান ডাকাতি করে লুন্ঠিত মালামাল ঢাকা, চিটাগাং, সিলেট এলাকায় নিয়ে যায়। গত ২২এপ্রিল ঢাকার আশুলিয়া ইফাদ কোম্পানীর গোডাউন হইতে ডাকাত সদস্য ড্রাইভার দুলাল এবং তার হেলপার রাশেদ মালামাল কাভার্ড ভ্যানে লোড করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে ডাকাত সর্দার জাহাঙ্গীর এবং ড্রাইভার দুলাল পরস্পর যোগসাজোস করে নরসিংদি জেলার মনোহরদী থানা এলাকা হতে জাহাঙ্গীর এবং রাসেল খান সুজন নামে দুইজন ডাকাত রাত ১১.৩০ টায় যাত্রী বেশে কাভার্ড ভ্যানে উঠে এবং হেলপারকে বুঝতে না দিয়ে কাভার্ড ভ্যান সহ কিশোরগঞ্জ শহরে গিয়ে হেলপার রাশেদকে সু-কৌশলে ম্যাঙ্গো জুসের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে পান করায় যাতে সে অচেতন হয়ে পরে। পরে তারা কাভার্ড ভ্যানটি সিলেট না নিয়ে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী এলাকায় নিয়ে আসে এবং ঢাকা টাঙ্গাইল রোডের পাশে ঘুমন্ত অবস্থায় হেলপার রাশেদকে ফেলে রেখে কাভার্ড ভ্যানটি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানা এলাকায় উল্লেখিত ঠিকানায় বিক্রয়ের জন্য আনলোড করে ক্রেতার অপেক্ষায় থাকে। এছাড়াও জনসাধারণের চোঁখ আড়াল করার জন্য প্রথমে শাজাহানপুর থানাধীন বনানী এলাকায় এবং পরে ধুনট থানাধীন পূর্ব ভরোনসাকি অফিসারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে এই চক্রের সদস্যরা। ধৃত ডাকাতগণ পুলিশকে আরো জানায় যে, তারা বিভিন্ন সময় কাভার্ড ভ্যান লুট করলেও অজ্ঞাত আসামী হিসেবে মামলা হওয়ায় তারা শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি।
অবশেষে ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) এর দিক-নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরীর তত্ত¡াবধানে ডিবির ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক এবং পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্যামপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে ইফাদ গ্রæপের ডাকাতি হওয়া মালামালসহ ইয়াসিন নামে এক ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার দেয়া তথ্যমতেই মোকামতলা এলাকা এবং ধুনট থানাধীন পূর্ব ভরোনসাকি অফিসারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলম সহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্বমোট ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পরবর্তী আসামীদের দেওয়া তথ্য মতে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী চান্দাইকোনা বাজার হইতে ডাকাতি হওয়া কাভার্ড ভ্যান যাহার নং ঢাকা মেট্রো-ট ২২-৭২৪৩ উদ্ধার করা হয় ঐ একই রাতেই।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীরা পেশাদার ডাকাত চক্রের সদস্য যাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেকে। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও বগুড়া জেলা পুলিশের জালে অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে তারা। এ ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে ঘটনার শুরুর স্থান টাঙ্গাইল কালিহাতি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং মঙ্গলবার বিকেলে কালিহাতি থানার উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে আসামীদের হস্তান্তর করা হয়েছে ডিবির পক্ষ থেকে।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here