অনুমোদন ও কেমিস্ট ছাড়াই চলছে গবাদি পশুর ওষুধ তৈরির অবৈধ প্রতিষ্ঠান আহাজ ফার্মা

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লেবেলে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নি¤œমানের ওষুধ
অনুমোদন ও কেমিস্ট ছাড়াই বগুড়ার জহুরুলনগরে চলছে
গবাদি পশুর ওষুধ তৈরির অবৈধ প্রতিষ্ঠান আহাজ ফার্মা

-সঞ্জু রায়: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বৈধ অনুমোদন এবং কেমিস্ট ছাড়াই বগুড়ার জহুরুলনগর আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে আহাজ ফার্মা নামে একটি গবাদি পশুর মানহীন ঔষধ তৈরির প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান বগুড়ার হলেও কোরিয়া, ভারত ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্বনামধন্য ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নকল প্যাকেট ব্যবহার করে প্রতিদিন মার্কেটে সরবরাহ করছে এন্টিবায়োটিকসহ নি¤œমানের নানা গবাদি পশুর ওষুধ। প্রশাসনের নাকের ডগায় শহরের অন্যতম এই আবাসিক এলাকায় কিভাবে এই প্রতিষ্ঠান চলছে তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে জনসাধারণের মাঝে। এদিকে এই প্রতিষ্ঠানটির এমন কার্যক্রমের খবর শুনে হতবাক হয়ে গেছে স্বয়ং জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।
সরেজমিনে জহুরুলনগরে ২ তলা বিশিষ্ট আহাজ ফার্মা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবেদন করতে গিয়ে যে দৃশ্য দেখা যায় তা দেখে যে কারোরই চোখ চড়কে উঠবে। গেটে নক করার সাথে সাথেই সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে যে রুমে তার ঔষধ তৈরির কেমিক্যাল রাখা আছে সেটিতে প্রথমে তালা ঝুলিয়ে দেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হেলাল উদ্দিন। কৌশলে তার মিষ্টি কথার জালে বগুড়ার কিছু নামধারী সাংবাদিকের নাম বলে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন হেলাল।
কেমিক্যাল রাখার রুমে প্রবেশের অনুমতি না মিললেও মালিক হেলালের সাথে তার অফিসরুমে গিয়ে চোখে পড়ে সেখানে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ব্যস্ত নামে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লেবেলযুক্ত মোড়কে ওষুধ প্যাকেট করা কাজে। তার প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটের পাশাপাশি হঠাৎ চোখে পড়ে সেখানে রয়েছে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখসহ শত শত বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের খালি প্যাকেট যার মাঝে উল্লেখযোগ্য সানসিউ কোম্পানি লি. কোরিয়া, হিন্দ ভারত, জেমিকো ফার্মা (জেপি) ঢাকা, পিউর অ্যানিম্যাল হেল্থ লি. ঢাকা যেগুলোতেও প্রতিদিন ঔষধ ভরিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাত করছে এই প্রতিষ্ঠান যা কথার মাঝে নিজেই স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক হেলাল উদ্দিন। এদিকে না চাইতেই নিজেকে সাধু প্রমাণ করতে মালিক হেলাল বের করতে থাকেন তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাগজ যেখানে শুধুমাত্র তার ট্রেডলাইসেন্স ও আয়করপত্র কাগজের ফটেকপি থাকলেও এন্টিবায়োটিক উৎপাদনসহ ওষুধ উৎপাদনের চলতি বছরের কোন কাগজই নাকি তার নেই বলে জানান তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে কোন টেকনিক্যাল এক্সিকিউটিভ বা প্রতিষ্ঠানে কোন কেমিস্ট এর তত্ত¡াবধানে এই ওষুধগুলো তৈরি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি দেখান তার প্রতিষ্ঠানে গাইবান্ধার অবসরপ্রাপ্ত জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিনের স্বাক্ষর করা যোগদানপত্র।
সন্দেহের বশে সেই ডিএলও (অবসরপ্রাপ্ত) বেলাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে ঐ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানলেও তাকে যে ঐ প্রতিষ্ঠানে টেকনিক্যাল এক্সিকিউটিভ হিসেবে রাখা হয়েছে তা তিনি জানেনই না, তিনি কোন পত্রে স্বাক্ষরও করেননি। তিনি আরো জানান ১/২ বছরের মধ্যে তিনি আহাজ ফার্মাতে কখনো আসেননি।
এদিকে আহাজ ফার্মাতে নামে-বেনামে থাকা বিভিন্ন কোম্পানীর খালি প্যাকেট ও তথ্যচিত্র নিয়ে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: রফিকুল ইসলামের অফিসে গেলে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির এসব কর্মকান্ড দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি। তিনি জানান, উক্ত প্রতিষ্ঠানটির নুন্যতম কোন সরকারি অনুমোদন নেই। দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির সন্ধান তারা করছিল। উক্ত প্রতিষ্ঠান যে কাজ করছে তা সম্পূূর্ণ প্রতারণা যে বিষয়টিতে দ্রæততম সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক বলেন, উক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন না থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।
এদিকে সর্বশেষ আহাজ ফার্মা প্রতিষ্ঠানটির মালিক হেলাল উদ্দিন প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আত্মবিশ^াসের সাথে উপহাস করে জানান যে, নিউজ করে কি করবেন? নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সব ম্যানেজ করেই নাকি সে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন ভ্রাম্যমান আদালত তাকে কতই আর জরিমানা করবে? সর্বোচ্চ ১০ হাজার বরং তাতে নাকি সে ৬ মাসের জন্যে নিরাপদ হয়ে যাবে। বগুড়া শহরের এই আবাসিক এলাকায় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসন দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন বগুড়াবাসী।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here