বগুড়ায় চাঁদাবাজদের হাতে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

বগুড়ায় চাঁদাবাজদের হাতে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন
-বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার চাঁদা না দেয়ায় বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাতের পর ছেলে রকিবুল হাসান হৃদয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। অন্যদিকে হৃদয়ের মৃত্যুর দুইদিন পরই জন্ম নিয়েছে তার সন্তান। সেই সন্তানের মুখ দেখার ভাগ্য হলো না হৃদয়ের।
সোমবার বেলা ১২ টার দিকে এই ঘটনার বিচারের দাবিতে বগুড়া প্রেসক্লাবে  সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন মোছা. আয়েশা সিদ্দিকা। তিনি নিহত রকিবুল হাসান হৃদয়ের মা ও আহত মামুনুর রশীদের স্ত্রী।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কৈপাড়া এলাকায় বাবা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। বুধবার রাতে বগুড়া শহীদ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলে হৃদয়ের মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা মামুনুর রশীদ একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় হৃদয়ের মা বাদী হয়ে বুধবার রাতেই বগুড়া সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আসামীদের মধ্যে মতিন ও শরিফ নামে দুজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, কৈপাড়া এলাকায় আমাদের নিজস্ব তিনতলা বাড়ির নিচ তলায় একটি মুদির দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোকানে বসে ছিলেন আমার ছেলে রকিবুল হাসান হৃদয়। ওই সময় কয়েকজন নেশাগ্রস্থ ছেলে অটোরিকশায় করে আমাদের দোকানের সামনে এসে নামে। তারা অটোরিকশা থেকে নেমেই দোকানে বসে থাকা হৃদয়ের কাছে ঈদের চাঁদা দাবি করে। এ সময় হৃদয় তাদেরকে চাঁদা দিতে অসস্মতি জানায়। এতে চাঁদাবাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানে ভিতরে প্রবেশ করে লুটপাটের চেষ্টা করতে থাকে। ওই সময় হৃদয় চিৎকার করে উঠে।’
তিনি বলেন, ‘হৃদয়ের চিৎকার শুনে তার বাবা দোকানের দিকে যান। একপর্যায়ে বাবার সামনেই হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে চাঁদাবাজরা। হৃদয়কে বাঁচাতে তার বাবা এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন বুধবার রাতে হৃদয় মারা যায়। তার বাবা আশঙ্কাজক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
আয়েশা সিদ্দিকা আরও বলেন, ‘ আমার ছেলে মারা যাওয়ার দুইদিন পরেই আমার নাতি জন্মগ্রহণ করে। সন্তানকে (নাতি) দেখার ভাগ্য আমার ছেলের হলো না। তাকে মেরেই ফেললো চাঁদাবাজরা।’
নিহত হৃদয়ের বোন জান্নাতুল ফেরদাউস মীম বলেন, ‘ চাঁদা না দেয়ায় আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। বাবা ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।’
মীম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ভাইয়ার জানাজা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার গরীবশাহ্ ক্লিনিকে আমার ভাইয়া-ভাবির প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আসে, যাকে দেখার ভাগ্য আমার ভাইয়ার হলো না।’
মীম আরও বলেন, ‘ বর্তমানে আমরা পরিবারের সবাই আতঙ্কিত অবস্থায় আছি এবং প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
এ প্রসঙ্গে বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘ আমরা দুজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব পুলিশের। তাদের কোনো সমস্যা হবে না।’

Leave a Reply